সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : তিন দিনের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে শুক্রবার নিউজিল্যান্ড গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই সফরের মধ্যেই ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার (Australia) মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত সহযোগিতা। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার দিকেই এগোনো বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বর্তমানে তিন দেশ সফরে রয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া (Indonesia), অস্ট্রেলিয়া (Australia) ও নিউজিল্যান্ড (New Zealand)। এই সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, শক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানো। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমার অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হচ্ছে। এই সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে (Anthony Albanese) আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও লেখেন, ‘এই সফরের ফলাফল আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। আগামী দিনে এই গতি আমাদের দেশ এবং গোটা বিশ্বের জন্য উপকারী হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে নয়াদিল্লি।
মেলবোর্ন (Melbourne) বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়ং (Penny Wong)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই সফর ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করেছে।’ একই সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সংযোগ এই সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া সফরে যে চুক্তিগুলি হয়েছে, তার মধ্যে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা অন্যতম। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এই খনিজ সম্পদগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক গত কয়েক বছরে দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার সফরের শেষ পর্বে নিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী। অকল্যান্ড (Auckland) শহরে তাঁর কর্মসূচী রয়েছে। এই সফর হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন (Christopher Luxon)-এর আমন্ত্রণে। দুই দিনের এই সফরে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ‘লাক্সনের সঙ্গে আমার আলোচনা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দিকেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লাক্সনের ভারত সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক যে গতি পেয়েছে, তার উপর ভিত্তি করেই এই সফর এগোবে।
নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গিয়েছে। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাও এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই তিন দেশ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই অঞ্চলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া সফরে হওয়া চুক্তিগুলি ভবিষ্যতে কতটা বাস্তবায়িত হয় ও তার প্রভাব কী হয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরে কী নতুন উদ্যোগ বা ঘোষণা সামনে আসে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাণিজ্য, শক্তি ও নিরাপত্তা এই তিন ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারত। সেই দিক থেকেই এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই সম্পর্ক কতটা বিস্তৃত হয়, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India mega refinery project, Narendra Modi announcement refinery | ৪০টি আইফেল টাওয়ারের সমান স্টিল! ভারতের মেগা রিফাইনারি প্রকল্পে নজর, মোদীর ঘোষণায় চর্চা তুঙ্গে




