Manas Bhunia Moves Calcutta High Court to Avoid Arrest, Fraud Allegation Case | গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাই কোর্টে মানস ভুঁইয়া, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ‘৫ লক্ষ’ অভিযোগে চাপে প্রাক্তন মন্ত্রী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে (Manas Bhunia) ঘিরে। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর পর গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya) তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন এবং খুব শীঘ্রই এই নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই এই ঘটনা সামনে এসেছে। সবং (Sabang) বিধানসভা কেন্দ্রের সাত বারের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ছেড়েছেন। ১৩ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি দলীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এর কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী

অভিযোগের সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) সবং এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক যুবকের তরফে। গত ১০ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর স্ত্রীকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি সংস্থায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ওই চাকরিটি হয়েছিল তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোতে, সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড (CISB Services Private Limited)-এর অধীনে। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এই চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তাঁকে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হয়। এই অর্থ তিনি দেন শেখ আবু কালান বক্স (Sheikh Abu Kalan Box) এবং ভোলানাথ দে (Bholanath De)-র হাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ায় তৎকালীন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার ভূমিকা ছিল। অর্থ দেওয়ার পর তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেন এবং মার্চ মাসে প্রথম বেতনও পান।

কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত হয় এর পরেই। অভিযোগ, মাত্র দু’মাসের মধ্যেই হঠাৎ করে চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে একদিকে অর্থ হারানোর ক্ষতি, অন্যদিকে চাকরি চলে যাওয়ার ধাক্কা, দুই দিক থেকেই বিপাকে পড়েন ওই পরিবার। এরপরই মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয় পুলিশের কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। মানস ভুঁইয়া অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা নেই এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার জন্যই এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আইনজীবী মহলের মতে, হাই কোর্টে আবেদন করার মাধ্যমে তিনি গ্রেফতারির সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। সেই শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, তার দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। এদিকে, মেদিনীপুর জেলা আদালতেও আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। সেই আবেদনের শুনানি নির্ধারিত রয়েছে আগামী ২৯ জুন। ফলে একই সঙ্গে দুই আদালতেই তাঁর আইনি লড়াই চলবে।

এই ঘটনার পর থেকেই সবং ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে এবার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত পৌঁছনোয় তা বড় আকার নিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগে উল্লেখিত সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। কী ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, আদৌ কোনও বৈধ নিয়োগপত্র ছিল কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মানস ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং প্রভাবশালী মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় তা স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। দলত্যাগের পরপরই এই মামলা হওয়ায় ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে। বর্তমানে নজর আদালতের দিকে। হাই কোর্টে মামলার শুনানি এবং জেলা আদালতে আগাম জামিনের রায়, এই দুইয়ের উপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে মানস ভুঁইয়ার আইনি অবস্থান কী হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi longest serving PM, Kangana Ranaut Puja for Modi | রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী! তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনায় যোধপুরে পুজো কঙ্গনা রানাওয়াত -এর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন