Ritabrata Camp to Approach Election Commission Claiming Real TMC | Bengal Political Crisis | ‘আমরাই আসল তৃণমূল’ : প্রমাণ হাতে নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে প্রস্তুত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস -এর ভিতরে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব এখন পৌঁছতে চলেছে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দরজায়। নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে এ বার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উদ্যোগী হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির। ইতিমধ্যেই সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে, আর কমিশনের অনুমতি মিললেই দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, তাঁদের হাতে রয়েছে সংগঠনগত ও পরিষদীয় শক্তির প্রমাণ। সেই নথিপত্রই কমিশনের সামনে তুলে ধরে তাঁরা বোঝাতে চান যে দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁদের হাতেই। এক বিদ্রোহী বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন করেছি। সময় পেলেই দিল্লিতে গিয়ে সব তথ্য তুলে ধরব।’ এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কতটা সক্রিয়।

আরও পড়ুন : TMC rebellion latest news, Trinamool Congress split 2026 | ‘তৃণমূলে নজিরবিহীন বিদ্রোহ’! ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙন, ৬৪ বিধায়ক নিয়ে আলাদা শিবিরে ঋতব্রত

সূত্রের খবর, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি যাবে। তাঁদের সঙ্গে থাকবে দলের নতুন করে গঠিত জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথি। সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে যে ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে, সেটিই তাঁদের দাবির অন্যতম ভিত্তি। ওই তালিকায় কারা কারা রয়েছেন, কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, সব তথ্য কমিশনের সামনে তুলে ধরা হবে। এর আগে মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতরে যান ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ একাধিক বিধায়ক। সেখানে তাঁরা কিছু নথি জমা দেন। তবে সেই নথি প্রকাশ্যে আনতে চাননি ঋতব্রত নিজে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও স্মারকলিপি দিইনি। কিছু কাগজ জমা দিয়েছি, যা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে, ঠিক কী এমন তথ্য রয়েছে ওই নথিতে?

অন্য দিকে, কালীঘাট শিবির এই পদক্ষেপকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) কটাক্ষ করে বলেন, ‘ওঁদের আইনের জ্ঞান তো অনেক। যেখানে খুশি যাক।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, মূল দল এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও প্রকাশ্যে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘিরে। ৫ জুন দলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়। এরপরই দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয় নেতৃত্ব আবার নতুন তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ও অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)-এর নাম বাদ দিয়ে নতুন মুখ হিসেবে নাদিমুল হক (Nadimul Haque)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তারপর ১৩ জুন রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেকে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দেন। সেখানে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর নাম। এই পদক্ষেপের পরই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে ঋতব্রত শিবির। গত সোমবার তাঁরা একটি ‘বিশেষ অধিবেশন’ আহ্বান করেন, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু নেতা অংশ নেন। সেই বৈঠক থেকেই মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে (Aroop Roy) সর্বভারতীয় তৃণমূলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়। এই কমিটিকেই তাঁরা এখন বৈধ সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই শুধুমাত্র দলীয় নেতৃত্বের প্রশ্ন নয়, বরং দলের প্রতীক, নাম এবং সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও। নির্বাচন কমিশনের সামনে বিষয়টি উঠলে তা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার দিকে গড়াতে পারে। কমিশন সাধারণত দুই পক্ষের নথি, সাংগঠনিক শক্তি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন, সব কিছু খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। ঋতব্রত শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সময় দেওয়ার উপর। যদি আগামী সপ্তাহেই সাক্ষাৎয়ের অনুমতি মেলে, তা হলে দ্রুত দিল্লি রওনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, প্রমাণ সহকারে নিজেদের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করা। রাজ্যের রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তৃণমূলের ভেতরের এই সংঘাত ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং উভয় পক্ষের আইনি লড়াইয়ের উপর। আপাতত নজর দিল্লির দিকে, যেখানে ঠিক হতে পারে ‘আসল তৃণমূল’ কারা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন