West Bengal Budget 2026 para teachers salary hike | ৫ হাজার টাকার বৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ! West Bengal Budget 2026-এ পার্শ্বশিক্ষকদের হতাশা, উঠছে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রশ্ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: West Bengal Budget 2026-এ পার্শ্বশিক্ষকদের (Para Teachers) জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ঘোষণার পরেই রাজ্যের প্রায় ৪০ হাজার পার্শ্বশিক্ষকের এক বড় অংশ অসন্তোষে ফেটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সমকাজে সমবেতনের দাবি তুলে আসা এই শিক্ষকদের বক্তব্য, এই বৃদ্ধি বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে তাঁদের আর্থিক বাস্তবতা বদলাতে পারবে না। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব ঘোষণার ফারাক নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বর্তমানে রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পার্শ্বশিক্ষকেরা মাসিক প্রায় ১৫,০৭১ টাকা পান, হাতে আসে গড়ে ১৩,১৪১ টাকা। অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরে কর্মরত পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ১১,৫৯৩ টাকা, হাতে আসে প্রায় ১০,০৯২ টাকা। নতুন বাজেট অনুযায়ী, এই দুই স্তরেই ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি হবে। ফলে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে বেতন দাঁড়াবে প্রায় ১৮ হাজার টাকার কাছাকাছি, আর প্রাথমিক স্তরে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই অঙ্ককে ‘অপর্যাপ্ত’ বলেই মনে করছেন শিক্ষকদের বড় অংশ।

আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী

নিখিলবঙ্গ পার্শ্বশিক্ষক সমিতির (Nikhil Banga Parshikshak Samiti) সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Madhumita Bandyopadhyay) বলেন, ‘প্রায় ২২ বছর ধরে আমরা একই ধরনের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু বেতন কাঠামো এখনও সেই পুরনো জায়গাতেই আটকে রয়েছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা গেল না।’ তাঁর দাবি, পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য যে আর্থিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৪ সালে সর্বশিক্ষা মিশন (Sarva Shiksha Mission) -এর আওতায় রাজ্যে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। শুরু থেকেই এই পদ ছিল চুক্তিভিত্তিক। ২০১০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee) চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর পর্যন্ত বাড়ালেও, স্থায়ী শিক্ষকদের মতো সুযোগসুবিধা তাঁরা পাননি। সেই পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত বলেই অভিযোগ। পার্শ্বশিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, প্রথম দিকে তিন বছর অন্তর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির একটি নিয়ম ছিল। পরে ২০১৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর নেতৃত্বাধীন সরকার এককালীন ৫ হাজার টাকা বেতন বাড়ালেও, বার্ষিক বৃদ্ধির সেই ধারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পরেই ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। ২০১৯ সাল থেকে আন্দোলনের পথেও হাঁটেন তাঁরা। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি চালু হলেও, তা যথেষ্ট নয় বলেই দাবি শিক্ষকদের।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিজেপি (BJP) -এর সঙ্কল্পপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে সমকাজে সমবেতনের দিকে এগোনোর কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির সঙ্গে বেতন সামঞ্জস্য রাখার আশ্বাসও ছিল। কিন্তু বর্তমান ঘোষণায় সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই বলেই দাবি।।মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওড়িশা (Odisha) ও ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এ পার্শ্বশিক্ষকেরা মাসিক প্রায় ৩২ হাজার টাকা পান। হরিয়ানা (Haryana)-তে এই অঙ্ক ৫২ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেই তুলনায় আমাদের রাজ্যে বেতন এখনও অনেকটাই কম। প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (Akhil Bharatiya Rashtriya Shaikshik Mahasangh) -এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক (Bapi Pramanik) তুলনামূলকভাবে কিছুটা সংযত সুরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল অন্তত ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতন। এক ধাপে সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না হলেও, ধাপে ধাপে বৃদ্ধি হলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।’ যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন এখনও অনেক কম। শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক অবস্থানে থাকা এই শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই ধরনের কাজ করেও স্থায়ী শিক্ষকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূলত ক্ষোভ বাড়ছে। নতুন বাজেট সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজ্য সরকারের তরফে যদিও জানানো হয়েছে, আর্থিক ভারসাম্য বজায় রেখেই ধাপে ধাপে উন্নয়নের পথে এগোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, পার্শ্বশিক্ষকদের অসন্তোষ এখনও প্রশমিত হয়নি। ভবিষ্যতে এই ইস্যু নতুন করে আন্দোলনের রূপ নিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।।West Bengal Budget 2026-এ ঘোষিত এই বেতন বৃদ্ধি নিয়ে তাই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। একদিকে সরকার উন্নয়নের দাবি তুলছে, অন্যদিকে পার্শ্বশিক্ষকেরা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়ায় হতাশ। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের শিক্ষা মহল থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on Annapurna Yojana 3000 July Payment | জুলাই ১-এই মিলবে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন