সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য বড় স্বস্তির খবর। অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, জুলাই মাসের শুরুতেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে আর্থিক সহায়তা। বুধবার ফলতা (Falta) বিধানসভা এলাকায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ‘যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তাঁরা আগামী ১ জুলাই জুন মাসের ৩ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন।’ সরকারি সূত্রে উল্লেখ যে, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় বিপুল সংখ্যক মহিলা উপকৃত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘গত ৩ জুন প্রায় ২৮ লক্ষ মা-বোনের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে।’ তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর করে তোলা এবং সংসারের খরচে সহায়তা করা।
শুধু তাই নয়, এখনও যারা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও বিশেষ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁদের কোনও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে সহজেই ফর্ম পূরণ করা যাবে। সরকারি কর্মীরা সব রকম সাহায্য করবেন, প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সহযোগিতা করা হবে।’ তাঁর এই ঘোষণায় বহু মহিলার মধ্যে স্বস্তির সুর শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই আরও প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার মহিলা নতুন করে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই তাঁরা আর্থিক সহায়তা পাবেন। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতা ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে অন্নপূর্ণা যোজনাকে সামনে রেখেছিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার।
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পেতেন, সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রত্যেক উপভোক্তাকে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফলে এই প্রকল্পের আর্থিক গুরুত্ব অনেক বেশি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই প্রকল্পের আবেদনপত্র নিয়ে কিছু সমালোচনাও উঠে এসেছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ১২ পাতার আবেদনপত্র সাধারণ মানুষের পক্ষে পূরণ করা কঠিন। যদিও এই সমালোচনার জবাবে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দিকেই জোর দিয়েছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে আসন্ন রাজ্য বাজেট নিয়েও ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ‘আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ করা হবে। সেখানে যুবক-যুবতী, সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন কিছু পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।’ পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘মানুষ যে বিশ্বাস নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব আমরা যথাযথভাবে পালন করতে চাই।’ তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সরকার আগামী দিনে আরও জনমুখী প্রকল্প নিয়ে এগোতে চাইছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার এই আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে, ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে বলেই দাবি প্রশাসনের। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা পৌঁছে দেওয়ায় মধ্যবর্তী কোনও জটিলতা থাকছে না। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত এই আর্থিক সহায়তা পেলে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ কিছুটা হলেও সামলানো সহজ হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের একাংশের মতে, এত বড় পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে পরিকাঠামো এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তারপর অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম দিনেই টাকা পাওয়ার ঘোষণা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পৌঁছয় কি না এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্প আরও কীভাবে বিস্তৃত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on West Bengal Police Reform | ‘পুলিশের গা থেকে রক্ত ঝরবে না’ : মউ স্বাক্ষরে বড় বার্তা শুভেন্দুর, দক্ষতা বাড়াতে জোর



