সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটতে চলেছে আসন্ন বিধানসভা বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে আগামী ২২ জুন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু (Rathindra Basu) -এর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠক ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই অধিবেশনের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠক শেষে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) এবং পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai) আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করেন। নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী, আগামী ১৮ জুন সকাল ১১টায় রাজ্যপাল সংবিধানের ১৭৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে তাঁর ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা করবেন। এই ভাষণকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, কারণ এর মধ্যেই সরকারের নীতিগত অবস্থানের ইঙ্গিত মিলবে। স্পিকার রথীন্দ্র বসু রাজ্যপালের ভাষণের প্রতিলিপি বিধানসভায় পেশ করবেন এবং শাসকদলের এক প্রবীণ বিধায়ক ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন, যা অন্য এক সদস্য সমর্থন করবেন।
১৯ জুন বিধানসভার কার্যসূচির শুরু হবে শোকপ্রস্তাবের মাধ্যমে। প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। এর পরের দিনগুলোতে মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, যা ২২ জুন দুপুর ১২টায় পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। এই বাজেটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের জন্য এই বাজেট কেবল আর্থিক নথি নয়, বরং আগামী দিনের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের দিকনির্দেশও বটে। শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি খাতের পুনর্গঠন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হতে চলেছে, তা এই বাজেট থেকেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে রাজ্যকে নতুন গতিপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কী ধরনের আর্থিক কৌশল গ্রহণ করা হবে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
অধিবেশনের সূচী অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ জুন রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা, জনস্বার্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন এবং সাধারণ বাজেটের উপর বিস্তৃত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনায় শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। ফলে বিধানসভা কার্যত রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে। ২৫ জুন বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা চলার পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের ব্যয়বরাদ্দ সংক্রান্ত দাবিপত্র পেশ করা হবে। এই পর্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই নির্ধারিত হবে কোন খাতে কত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের আর্থিক অগ্রাধিকার কোন দিকে ঝুঁকছে। এরপর অধিবেশনে সাময়িক বিরতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পর্যায় শুরু হবে আগামী ৬ জুলাই। এই অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সূত্রের খবর, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha), আখতারুজ্জামান (Akhtaruzzaman), নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui), মোস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman), হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এবং মেহতাব শেখ (Mehtab Sheikh)।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন হওয়ায় বিরোধী দলগুলিও নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অবশিষ্ট বিধায়করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chattopadhyay)-এর নেতৃত্বে বিধানসভায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বাজেট রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে রাজস্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামাজিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হয়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। একই সঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্কের প্রভাবও এই বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে। বিধানসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য এবং পাল্টা বক্তব্যের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে ১৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Darjeeling Hills Visit | পাহাড়ে প্রথম সফরে উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর, কার্শিয়াঙ থেকে চা-বাগান খোলা-সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি




