সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। West Bengal Budget 2026-এ ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে (Government Hospitals) রোগী পিছু দৈনিক খাবারের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। এতদিন যেখানে এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা, সেখানে নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১১০ টাকা। এই ঘোষণাকে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বহু বছর ধরেই সরকারি হাসপাতালের খাবার নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। রোগীদের পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশ বারবার অভিযোগ তুলেছেন, হাসপাতালে পরিবেশিত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও ডাল প্রায় জলের মতো, কোথাও দুধে পুষ্টির অভাব, আবার অনেক ক্ষেত্রে মাছ বা প্রোটিন জাতীয় খাবারের পরিমাণও ছিল অত্যন্ত কম। এমনকি কিছু হাসপাতালে বিকল্প হিসেবে মুড়ি বা মিষ্টি দিয়ে খাবারের দায় সারার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে।
এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কম বরাদ্দ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এত কম টাকার মধ্যে তিন বেলার খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। যদিও রোগী ও তাঁদের পরিবারের বক্তব্য ছিল, অর্থ সীমিত হলেও খাবারের ন্যূনতম গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (West Bengal Assembly)-এ পেশ হওয়া বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়। বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘মাত্র ৫৬ টাকার মধ্যে তিন বেলার খাবার দেওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল। এতে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital) পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকেরা বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। একই ধরনের সবজি বারবার পরিবেশন করা হচ্ছিল, যা রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তিনি চিকিৎসকদের কাছে জানতে চান, কত টাকা বরাদ্দ হলে একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, প্রতিদিন অন্তত ১০৪ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার বরাদ্দ আরও বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ফুল রাইস ডায়েট’ (Full Rice Diet)-এর আওতায় থাকা রোগীদের জন্য এই বাড়তি বরাদ্দ কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, এতে শুধু খাবারের পরিমাণই নয়, গুণগত মান ও পুষ্টিগুণও উন্নত হবে। খাদ্যতালিকায় আরও বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে, যাতে রোগীরা পর্যাপ্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন পান। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার মান উন্নত হবে এবং রোগীদের সন্তুষ্টি বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ জমে উঠেছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধুমাত্র বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত রয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক ক্ষেত্রে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব থাকে বেসরকারি সংস্থার হাতে। সেই ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ফারাক থাকলে রোগীরা প্রত্যাশিত পরিষেবা পান না। নতুন বরাদ্দের পর সেই ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, অনেকেই বাস্তব প্রয়োগের দিকে নজর রাখার কথা বলছেন। কারণ, অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের অমিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষেবার মান বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণের পথেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের খাবার নিয়ে যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল, তা দূর করতে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। West Bengal Budget 2026-এ স্বাস্থ্যখাতে এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, তা রোগী পরিষেবার মানোন্নয়নের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই নীতি বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবারের মান সত্যিই বদলায় কি না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Union Budget 2026 Textile Initiatives | কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পরামর্শ বৈঠক, শিল্প ও রাজ্যগুলির মতামত নিল কেন্দ্র




