সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানালেন, তাঁর সরকারের আমলে পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তাঁদের ‘গা থেকে আর রক্ত ঝরবে না’। একই সঙ্গে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় (Rashtriya Raksha University) -এর সঙ্গে মউ (MoU) স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। এই কর্মসূচী থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের পুলিশকর্মীরা আহত হয়ে হাসপাতালে যাবে, এমন পরিস্থিতি আমরা হতে দেব না। আমরা এমন একটি সুরক্ষিত বাহিনী তৈরি করতে চাই, যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবে এবং একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অতীতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, একসময় কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)-এর দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করা হত। ‘এক সময় কলকাতা পুলিশকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড (Scotland Yard)-এর সঙ্গে তুলনা করা হত’ এই মন্তব্য করে তিনি জানান, সেই অবস্থান ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। তবে তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুলিশের দক্ষতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের উপর হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। গার্ডেনরিচ (Garden Reach)-এর হরিমোহন ঘোষ কলেজে ২০১৩ সালের ছাত্র ভোটের সময় এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু, ২০১৪ সালে আলিপুর থানায় (Alipore Police Station) উত্তেজিত জনতার হামলার মুখে পুলিশের বিপর্যস্ত অবস্থা, এই সব ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে পুলিশ নিজেদেরই রক্ষা করতে পারেনি। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ অপরাধীদের কাছে মার খাবে, এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’ এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে পুলিশকর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ পুলিশের কর্মদক্ষতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আরও সক্ষম করে তুলবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, রাজ্যের পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর নির্ভরশীল না রেখে স্বনির্ভর করে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের পুলিশ নিজেদের শক্তিতেই সমস্ত পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম হোক।’ প্রসঙ্গত, পুলিশ বাহিনীতে লোকবল বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে চাইছি এবং নতুন করে নিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।’ তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কনস্টেবল প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রেও সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান। পুলিশের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আধুনিক অস্ত্র, সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই পদক্ষেপগুলি শুধু পুলিশের সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলে ধারণা, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, ‘জনগণের নিরাপত্তা এবং পুলিশের নিরাপত্তা এই দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সরকার দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এগোতে চাইছে, একদিকে নাগরিক সুরক্ষা, অন্যদিকে পুলিশ বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পুলিশের আধুনিকীকরণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Budget 2026, WB Assembly Session, Suvendu Adhikari budget | পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬: ২২ জুন শুভেন্দু সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট



