সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : উত্তরাখণ্ডের জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র মসূরীতে (Mussoorie) মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়ে এক তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। দিল্লির বাসিন্দা রাধা গায়ত্রী (Radha Gayatri) নামে ওই তরুণীর বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে একটি হোমস্টে থেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত, আর সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন, যা ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাধা গায়ত্রী পেশায় একজন আইটি কর্মী ছিলেন এবং গুরুগ্রামের (Gurugram) একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে, গত বছরের নভেম্বর মাসে, তাঁর বিয়ে হয় সৌম্য শ্রীচরণ (Soumya Sricharan) -এর সঙ্গে, সৌম্য পুণে (Pune) কর্মরত। নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমার জন্য উত্তরাখণ্ডে যান এবং গত ১৪ জুন মসূরীর তিপরি ধার (Tipri Dhar) এলাকায় একটি হোমস্টেতে ওঠেন। হোমস্টে সূত্রে খবর, ‘ব্লিস’ (Bliss) নামে একটি ঘরে ওই দম্পতি উঠেছিলেন। ঘটনার আগের রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাধার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত আমরা দু’জনে একসঙ্গে মদ্যপান করি।’ তাঁর দাবি, রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত তাঁরা জেগে ছিলেন এবং এরপর সাড়ে ৩টার সময় ঘুমোতে যান।
তবে পরদিন সকালে যে দৃশ্য সামনে আসে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। স্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ঘুম ভাঙার পর দেখি মেঝেতে আমার স্ত্রী নগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তাঁর নাক থেকে রক্ত বেরোচ্ছে।’ এই অবস্থায় তিনি স্থানীয়দের খবর দেন এবং দ্রুত পুলিশে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে রাধার দেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক ছিল। যেখানে দেহটি পড়ে ছিল, সেই জায়গা প্রস্রাবে ভেজা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিছানার চাদরে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে এবং ঘরের ভিতর থেকে দু’টি খালি মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। এই সব তথ্য সামনে আসতেই মৃত্যুর প্রকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। তবে খুন, না কি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে জোরকদমে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দম্পতির গতিবিধি, হোমস্টের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ, সব কিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।’ পাশাপাশি, দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকেই পর্যটনকেন্দ্র মসূরীতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় এই এলাকায় এমন ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাধা ও সৌম্য দু’জনেই অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) -এর বাসিন্দা ছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁরা দেশের ভিন্ন শহরে থাকলেও বিয়ের পর একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। সেই নতুন জীবনের শুরুতেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার ফলে দুই পরিবারের উপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, হোমস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং এমন ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই পুরো ঘটনার চিত্র পরিষ্কার হবে। আপাতত সমস্ত সম্ভাবনাই খোলা রাখা হয়েছে। স্বামীর বয়ানও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, মধুচন্দ্রিমার মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তে এমন এক মর্মান্তিক পরিণতি নিঃসন্দেহে নাড়িয়ে দিয়েছে অনেককেই। এখন সকলের নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে, কীভাবে এই মৃত্যু ঘটল, তার উত্তর খুঁজতেই তৎপর পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal budget 2026, Swapan Dasgupta Delhi visit | বাজেটের আগে দিল্লিতে স্বপন দাশগুপ্ত, নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে বৈঠকের জল্পনা




