Malda litchi export news, litchi farming West Bengal | মালদহের লিচু এবার রাজস্থানে, কম ফলনেও বাড়ছে চাহিদা ও কৃষকদের আয়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মালদহ: আমের জন্য বহুদিন ধরেই পরিচিত উত্তরবঙ্গের মালদহ (Malda)। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জেলার আরেকটি ফল নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে, লিচু। স্বাদ, গুণমান এবং বাজারে চাহিদার নিরিখে মালদহের লিচু এখন ধীরে ধীরে আলাদা পরিচিতি তৈরি করছে। চলতি মরসুমে সেই লিচু প্রথমবার সরাসরি রাজস্থানে (Rajasthan) রপ্তানি হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক (Samanta Layek) জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়ার কারণে প্রত্যাশামতো ফলন না হলেও বাজারে চাহিদার ঘাটতি হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ‘ফলন কিছুটা কম হলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়েনি। মুম্বইয়ের বাজারে যেমন লিচু যাচ্ছে, তেমনই দিল্লির পাশাপাশি নতুন করে রাজস্থানেও পাঠানো শুরু হয়েছে।’ এই পরিবর্তন মালদহের কৃষি অর্থনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Aamir Khan Marriage, Aamir Khan Third Wedding | ৫ জুলাই ছাঁদনাতলায় আমির! তৃতীয় বিয়ের খবর নিজেই জানালেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট, সিদ্ধান্তে সাধুবাদ সুচিত্রার

এর আগে মালদহ থেকে সরাসরি রাজস্থানে লিচু পাঠানোর নজির ছিল না। সাধারণত দিল্লি বা অন্য বড় বাজার ঘুরে এই ফল সেখানে পৌঁছত। ফলে দাম বেড়ে যেত এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও জটিল হয়ে উঠত। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি বদলেছে। রাজস্থানের একাধিক ব্যবসায়ী সরাসরি মালদহে এসে বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শাহবাজপুর এলাকার একটি লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে রাজস্থানের ব্যবসায়ী জ্যোতি পাশোয়ান (Jyoti Paswan) বলেন, ‘রাজস্থানে লিচুর চাহিদা অনেক। এতদিন দিল্লির বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হত। এবার আমরা বাগান থেকেই সরাসরি সংগ্রহ করছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সরাসরি সংযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়িক দিক থেকেও সুবিধা হচ্ছে।

মালদহ জেলার কালিয়াচক (Kaliachak) অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি লিচু উৎপাদন হয়। বিশেষ করে কালিয়াচক ১, ২ এবং ৩ নম্বর ব্লকে বিস্তীর্ণ এলাকায় লিচুর বাগান রয়েছে। গঙ্গা (Ganges) নদীর সংলগ্ন এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে এখানকার লিচু স্বাদে ও গুণমানে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পাতলা খোসা, রসে ভরপুর শাঁস এবং মিষ্টতার কারণে বাজারে এই লিচুর কদর বরাবরই বেশি। চাষীদের কথায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। অকাল বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ফলন কম হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী, বিশেষ করে মুম্বই (Mumbai) থেকে আসা পাইকাররা পর্যাপ্ত লিচু না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গিয়েছেন। তবুও যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তার একটি বড় অংশ বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। একজন স্থানীয় চাষি বলেন, ‘ফলন কম হলেও আমরা ভাল দাম পাচ্ছি। বাইরের রাজ্যের ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসে কিনে নিচ্ছেন, এতে আমাদের লাভ হচ্ছে।’ এই সরাসরি লেনদেনের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমছে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলেই মত অনেকের।

পরিসংখ্যান বলছে, মালদহ জেলায় প্রায় ১৫৫৩ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। গত কয়েক বছরে এই পরিমাণ আরও বেড়েছে, প্রায় ৫০ হেক্টর নতুন জমিতে লিচুর বাগান গড়ে উঠেছে। সাধারণত প্রতি বছর সাড়ে আট হাজার থেকে নয় হাজার মেট্রিকটন লিচু উৎপাদন হয়। তবে চলতি বছরে সেই পরিমাণ কমে পাঁচ হাজার মেট্রিকটনের নিচে নেমে এসেছে।তবুও বাজারে চাহিদা অটুট রয়েছে। মুম্বই ছাড়াও অসম (Assam), বিহার (Bihar), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এ প্রতি বছর মালদহের লিচু পাঠানো হয়। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন দিল্লি (Delhi) ও রাজস্থান। এর ফলে জেলার লিচু ব্যবসা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, লরি বোঝাই করে কালিয়াচকের বাগান থেকেই সরাসরি সড়কপথে লিচু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজস্থানে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচসাপেক্ষ। ফলে ব্যবসায়ী ও চাষী, উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছেন। মালদহের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন আম ছিল জেলার প্রধান পরিচয়, তবে এখন লিচুও সেই জায়গায় জায়গা করে নিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং নতুন বাজারের সংযোগ এই ফলকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। চলতি বছরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ দেখাচ্ছে। যদি আবহাওয়া সহায়ক হয় এবং উৎপাদন বাড়ে, তবে মালদহের লিচু দেশের আরও বেশি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে, এমনটাই আশা করছেন কৃষকরা। বাজার সম্প্রসারণের এই প্রবণতা ধরে রাখতে পারলে জেলার কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Swasthya Sathi scam Malda | ‘স্বাস্থ্যসাথী’কে ঢাল করে মালদহে কোটি টাকার প্রতারণা! ‘বিশ্ব বাংলা’ নামে নার্সিংহোমে ভুয়ো ভর্তি, কড়া অভিযানে লাইসেন্স সাসপেন্ড একাধিক প্রতিষ্ঠানে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন