Abhishek Banerjee Parents High Court | পৌরনিগমের নোটিসে হাইকোর্টে অভিষেকের বাবা-মা, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টের দোরগোড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় (Amit Banerjee) এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Lata Banerjee) কলকাতা পৌরনিগমের (Kolkata Municipal Corporation) পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই নির্মিত, অথচ বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে যে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা আইনসঙ্গত নয়। উল্লেখ্য, সোমবার দায়ের করা আবেদনে আবেদনকারীরা আদালতের কাছে ওই নোটিস খারিজ করার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘বাড়ির প্রতিটি অংশই প্রযোজ্য আইন ও বিধি মেনে তৈরি হয়েছে। কোনও ধরনের বেআইনি নির্মাণ করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পৌরনিগমের এই পদক্ষেপ তাঁদের আইনি অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।

আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee attack | সোনারপুরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, তারপরই হামলা : অভিষেককে ঘিরে বড় বিতর্ক

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে নোটিস পাঠানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলিতে অনুমোদনবিহীন নির্মাণ থাকতে পারে। সেই সূত্রেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নিজেও কয়েকদিন আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘পৌরনিগম আগে নির্দিষ্ট করে জানাক, কোন অংশটি বেআইনি বলা হচ্ছে। সেই তথ্য সামনে এলে তবেই আমি বিস্তারিত বলব।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়।

হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের বাড়িকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আবেদনকারীদের দাবি, তাঁদের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে, যা প্রমাণ করে নির্মাণ সম্পূর্ণ বৈধ। সেই কারণেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নোটিস বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, আদালত যদি নথিপত্র খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়, তাহলে পুরো বিষয়টির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে পৌরনিগমের অভিযোগ কতটা ভিত্তিসম্পন্ন এবং আবেদনকারীদের বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা বিচারিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সূত্রের খবর, আগামী বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি হতে পারে। সেই শুনানিতে আদালতের নির্দেশই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। যদি আদালত নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দেয়, তাহলে আবেদনকারীদের পক্ষে তা বড় স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে, পৌরনিগমের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হলে মামলাটি আরও বিস্তৃত পরিসরে গড়াতে পারে।

এই ঘটনায় আরও একটি দিক সামনে এসেছে যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। শান্তিনিকেতনে (Santiniketan) অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি বাড়িকেও ঘিরে একই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে একাধিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নজর রয়েছে আদালতের শুনানির দিকে। আবেদনকারীরা আশা করছেন, আদালত তাঁদের বক্তব্য বিবেচনা করে যথাযথ নির্দেশ দেবে। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফেও তাদের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের এই বাড়িকে কেন্দ্র করে যে আইনি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন