সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ (RG Kar Case) ও হাসপাতালের বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। নির্যাতিতার পরিবার এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিন জনের গ্রেফতারির দাবি তুলেছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। পাশাপাশি সোমনাথ দাস (Somnath Das) এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় (Sanjib Mukhopadhyay)-এর নামও উল্লেখ করে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানানো হয়েছে। বুধবার শিয়ালদহ আদালতে (Sealdah Court) এই আবেদন পেশ করে নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়ম হয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা, প্রয়োজনীয় নথি পরিবারের হাতে না-দেওয়া এবং দ্রুত দাহক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পরিবারের বক্তব্য, এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে উল্লিখিত তিন জনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ থাকতে পারে বলেই তাঁদের সন্দেহ।
আদালতে এই মামলার শুনানির সময় সিবিআই (Central Bureau of Investigation) -এর আইনজীবী বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা কাকে গ্রেফতার করবে, তা বাইরের কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে জবাব দিতে চাই।’ এর পাল্টা নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী দাবি করেন, ‘ঘটনার পর থেকেই তিন জন ব্যক্তি অস্বাভাবিক ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রথমেই নির্মল ঘোষ, তারপর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁরা দেহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।’ এই বক্তব্য আদালত চত্বরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিবারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে জমা দেওয়া চার্জশিটে অতিরিক্ত চার্জশিট দাখিলের কথা বলা হলেও এখনও তা আদালতে পেশ করা হয়নি। এই বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের মতে, তদন্তের গতি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই নতুন করে এই আবেদন জানানো হয়েছে। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ জুন ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে (Tirthankar Ghosh) প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) মনোনয়ন দেয় নির্যাতিতার মাকে। নির্বাচনের ফলাফলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে পরাজিত করে জয়ী হন নির্যাতিতার মা, যা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে।
এদিকে, নতুন সরকার গঠনের আগেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, আরজি কর-কাণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নতুন কমিশন গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘সন্দেশখালি (Sandeshkhali) থেকে আরজি কর, যেখানেই মা-বোনদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, সব কিছুর তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বুধবার থেকেই রাজ্য বিধানসভায় শপথগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও এ দিন শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই আবহের মধ্যেই আদালতে হাজির হন নির্যাতিতার মা। সেখানে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটার প্রায়োরিটি আগে। আমার মেয়ে আমার গোটা পৃথিবী ছিল। আমার এই জায়গাটা থাকবে মেয়ের জন্য অন্তত।’ তাঁর এই বক্তব্যে আদালত চত্বর স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং তদন্তের নানা পর্যায় পার হয়ে মামলাটি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পরিবারের নতুন আবেদন তদন্তের গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আইনজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ এবং সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সবার। এই ঘটনার প্রতিটি দিকই জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আইন, রাজনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন একসূত্রে গাঁথা হয়ে উঠেছে এই মামলায়। আগামী ৫ জুনের শুনানি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা




