সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেই আহ্বান এবার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিতে শুরু করেছে। নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পেট্রল-ডিজ়েল নির্ভরতার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি (Special Protection Group)-কে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এসপিজি-কে জানানো হয়েছে যে নিরাপত্তার মান বজায় রেখেই কনভয়ের আকার ছোট করতে হবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যেখানে সম্ভব সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে নতুন গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যেই এই পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এটি এক প্রতীকী উদ্যোগ হলেও এর প্রভাব বৃহত্তর স্তরে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত যেহেতু পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, এমনকি সোনা ও সার এই সব কিছুর বড় অংশই আমদানি করে, তাই এই ধরনের অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে।
রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদে (Secunderabad) এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রথম এই বিষয়ে মুখ খোলেন। সেখানে তিনি দেশবাসীর কাছে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান। পরের দিন গুজরাতের ভদোদরায় (Vadodara) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এখন দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এই পরিস্থিতির সূচনা, আর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তা আরও জটিল করে তুলেছে।’ তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জের দিকটি তুলে ধরে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সংযম, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং বিকল্প শক্তির দিকে ঝোঁকার উপর গুরুত্ব দেন মোদী। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ যদি কিছুটা সতর্ক হন, তা হলে দেশের উপর চাপ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। এই বক্তব্যের পরেই নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
কেন্দ্রের এক সূত্রে খবর, নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই এসপিজি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। নিরাপত্তা প্রোটোকল বজায় রেখে কীভাবে কম সংখ্যক গাড়িতে কনভয় পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান গাড়িগুলির মধ্যে বৈদ্যুতিক বিকল্প খুঁজে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। শুধু কেন্দ্রীয় স্তরেই নয়, রাজ্য স্তরেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-শাসিত কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও একই পথে হাঁটতে পারেন বলে সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগের আহ্বান জানানো হচ্ছে সোনা কেনা কমান, বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন, পেট্রল কম ব্যবহার করুন, এমনকি ঘরে বসে কাজ করুন। এগুলো কোনও পরামর্শ নয়, বরং পরিস্থিতির প্রতিফলন।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে যখন কেন্দ্র সরকার সংযমের কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের মতে এই ধরনের আহ্বান সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে শাসকদলের দাবি, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন, এবং সেই দিকেই ইঙ্গিত করছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো নিছক একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়। এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। দেশের জ্বালানি চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে আমদানির উপর নির্ভরতাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প শক্তি এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই বিচার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এখন নজর রয়েছে, এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং অন্য স্তরেও তা কতটা অনুসরণ করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আহ্বান কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আগামী দিনে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Ayushman Bharat | পশ্চিমবঙ্গে চালু আয়ুষ্মান ভারত, মোদীর বার্তায় উচ্ছ্বাস



