সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্য রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনায় এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল বিধানসভা চত্বরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এদিন বিধানসভায় প্রবেশের আগে সিঁড়িতে মাথা ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। সেই মুহূর্তটি উপস্থিতদের নজর কাড়ে। রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও রীতিনীতির প্রতিফলন যেন উঠে এল তাঁর এই আচরণে। বিধানসভায় পৌঁছনোর পর প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় (Tapas Roy) তাঁকে স্বাগত জানান। প্রথা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপর ড. বি. আর. অম্বেডকর (B. R. Ambedkar) -এর মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি সরাসরি নিজের নির্ধারিত কক্ষে যান, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল।
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী ঘণ্টা বাজিয়ে পুজো করছেন। পাশে পুরোহিত উপস্থিত, শঙ্খধ্বনিতে পরিবেশ ভরে উঠেছে। এই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে, কারণ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে এই ধরনের আচার সচরাচর আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
পুজো শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁকে প্রথম বিধায়ক হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার। ভবানীপুর কেন্দ্রের (Bhabanipur) বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে নন্দীগ্রাম (Nandigram) কেন্দ্রটি তিনি ছেড়ে দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। শপথগ্রহণের সেই মুহূর্তও তিনি নিজে সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর একে একে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik) প্রমুখ। এরপর অন্যান্য বিধায়কদের শপথগ্রহণ শুরু হয় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী। প্রথম পর্যায়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন বিধায়ক শপথ নেন বলে জানা গেছে। এই পর্যায়ে মূলত উত্তরবঙ্গ এবং মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার প্রতিনিধিরা ছিলেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বা এজেইউপি (Ajanta Unnayan Party / AJUP)-র নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) নওদা কেন্দ্র (Naoda)-এর বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। এর ফলে রেজিনগর (Rejinagar) কেন্দ্রটি তিনি ছেড়ে দিতে চলেছেন বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের শপথগ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টো থেকে, যা বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলে। এই পর্যায়ে নদিয়া (Nadia), উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলার বিধায়কেরা শপথ নেন। বিধানসভা চত্বরে দিনভর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। স্থায়ী স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সাধারণত বিধানসভার প্রবীণ সদস্যকেই এই পদে বসানো হয়। মঙ্গলবার রাজ্যপাল আর. এন. রবি (R. N. Ravi) তাঁকে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। সূত্রের খবর, ১৫ মে বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাপস রায়কেই অধ্যক্ষ পদে মনোনীত করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রোটেম স্পিকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগের দিন তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে সরাসরি প্রশাসনিক কাজে যোগ দেন তিনি। লোক ভবনেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যেখানে কয়েক জন মন্ত্রী এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভায় শুভেন্দুর প্রথম দিনের এই ধারাবাহিক কার্যকলাপ একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা, সাংবিধানিক প্রথা এবং ব্যক্তিগত আচার, সব কিছু মিলিয়ে দিনটি একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিধানসভা চত্বরে এদিন যে ছবি ধরা পড়ল, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শপথগ্রহণের মতো একটি গুরুতর পর্বে এই ধরনের দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। আগামী কয়েক দিনে স্পিকার নির্বাচন এবং পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হলে নতুন সরকারের কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম দিনের এই দৃশ্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari cabinet decisions, Ayushman Bharat Bengal news | চাকরির বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু, প্রথম বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর




