সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অনুমোদনহীন টোল গেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নেতৃত্বে প্রশাসন স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে, যে সব টোল গেট সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চালু রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে কোনও রকম টাকা তোলা যাবে না। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবাল (Manoj Kumar Agarwal) -এর দফতর থেকে মঙ্গলবার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের সর্বত্র যে টোল গেট, ড্রপ গেট, ব্যারিকেড বা অনুরূপ কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে অথচ যেগুলির কোনও সরকারি অনুমোদন নেই, সেগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে বন্ধ করতে হবে। এই কাজে জেলার জেলাশাসকদের (District Magistrate) সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, ‘প্রত্যেক জেলাশাসককে নিজ নিজ এলাকায় অবিলম্বে সমীক্ষা চালিয়ে অনুমোদনহীন টোল পয়েন্টগুলি চিহ্নিত করতে হবে এবং সেগুলি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ পাশাপাশি বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোনও বেআইনি টোল গেট গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও প্রশাসনের উপরই বর্তাবে। প্রশাসনিক মহলের এক কর্তার কথায়, ‘এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত টোল আদায় সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছিল। সেই কারণেই এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে অনুমোদনহীন কোনও টোল পয়েন্ট থেকে অর্থ সংগ্রহ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এখানেই শেষ নয়, সরকার সমস্ত অনুমোদিত টোল গেটের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে। সেই তালিকায় প্রতিটি টোল গেটের অবস্থান, পরিচালনাকারী সংস্থা এবং সংগৃহীত অর্থ কোন দফতর বা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়ছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এই তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠত, কোনও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় টোল আদায় করা হচ্ছে, যার কোনও হিসাব থাকে না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যেমন সমস্যায় পড়তেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থার উপরও প্রভাব পড়ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পরপরই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের দিকটি তুলে ধরে। গত শনিবার নতুন সরকার গঠনের পর সোমবারই নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের সরকার সুশাসন ও সুরক্ষার পথে চলবে।’ পাশাপাশি তিনি ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর মডেলের কথাও উল্লেখ করেন, যা বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-শাসিত অন্যান্য রাজ্যে অনুসরণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অনুমোদনহীন টোল গেট বন্ধের নির্দেশকে সেই ঘোষণারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলতে থাকা অনিয়ম অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বহু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, রাস্তার মাঝে হঠাৎ করেই টোল গেট বসিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে।
কিন্তু, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে এই ধরনের টোল গেট দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে, সেখানে তা বন্ধ করতে প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিষয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ। কোথায় কোথায় বেআইনি টোল গেট রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুত তা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা আগামী দিনেই পরিষ্কার হবে। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্ত যে জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sunita Williams retirement | ৬০৮ দিনের মহাকাশযাত্রার ইতি: ২৭ বছরের গৌরবময় চ্যাপ্টার শেষে নাসাকে বিদায় সুনীতা উইলিয়ামসের



