Samsherganj murder verdict 2026, Murshidabad double murder case | হরগোবিন্দ-চন্দন খুনে ১২ জনের ১০ বছরের সাজা, আদালতের রায়ে নতুন মোড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে রায় ঘোষণা হল বহুল আলোচিত সামশেরগঞ্জ (Samsherganj) খুন মামলায়। হরগোবিন্দ দাস (Hargobinda Das) এবং তাঁর পুত্র চন্দন দাসকে (Chandan Das) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক দোষীর উপর ৬০ হাজার টাকা করে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। এই রায় সামনে আসতেই ফের একবার চর্চায় উঠে এসেছে এই ঘটনাটি।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

আদালত সূত্রে খবর, দোষীদের মধ্যে পাঁচ জন সরাসরি খুনের ঘটনায় যুক্ত ছিল। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় উঠে এসেছে, ঘটনার সময় এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ওই ঘটনার সময় একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল পুরো পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার। সেই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের উপর মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। এই অগ্নিসংযোগ এবং খুনের চেষ্টার ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ আলাদা একটি মামলা রুজু করেছিল। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ঘটনাটি একাধিক স্তরে ঘটেছিল খুন, হামলা এবং অগ্নিসংযোগ, সবকিছুর জন্য পৃথকভাবে তদন্ত চালানো হয়।’ এই মামলাগুলির বিচারপ্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে চলেছে বলেও জানা যায়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ এপ্রিল। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান (Dhuliyan) -এর জাফরাবাদ (Jafarabad) এলাকায় হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। অভিযোগ, তাঁদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশ জানিয়ে দেয়, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটেছে।’ পরবর্তীতে চার্জশিটেও সেই দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। তদন্তের সময় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। একজনের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ।

বিচার চলাকালীন একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দী এবং ফরেনসিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন পরে হলেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অন্য দিকে, ঘটনার নির্মমতা এখনও মানুষের মনে তাজা। উল্লেখ্য, এই ঘটনার অন্যতম ভয়াবহ দিক ছিল অগ্নিসংযোগের চেষ্টা। তদন্তে উঠে আসে, একটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়, তবুও সেই ঘটনার অভিঘাত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুভূত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘যে কোনও সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য’ এমনই মত পুলিশের এক আধিকারিকের। সামশেরগঞ্জের এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একসময় বড় প্রশ্ন তুলেছিল। তবে এই রায়ের মাধ্যমে সেই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হল।

আইনি মহলে আলোচনা হচ্ছে, ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা, এই শাস্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার প্রায় এক বছর পর এই রায় সামনে এল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালতের সিদ্ধান্তে এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। এখন নজর থাকবে, দোষীদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয় কি না। তবে আপাতত সামশেরগঞ্জ খুন মামলার এই রায় রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar, Suvendu Adhikari Government Scheme | ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার, মহিলাদের ৩০০০ টাকা ও ফ্রি বাস, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন