West Bengal Cabinet Portfolio, Bengal BJP Government | পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টন: কার হাতে কোন দায়িত্ব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যের মধ্যে দফতর বণ্টন করে দিলেন (West Bengal Cabinet Portfolio) রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ নতুন সরকারের কাজের অগ্রাধিকার ও রূপরেখা অনেকটাই এই বণ্টনের মধ্যেই ফুটে উঠেছে। সরকারি সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন এবং প্রাণিসম্পদ, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh)। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দফতরগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দিলীপের কাঁধে বড় দায়িত্বই তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

আরও পড়ুন : PM SHRI West Bengal, Bengal School Scheme | পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে পিএম শ্রী প্রকল্প! কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত

অন্যদিকে, অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) -এর হাতে দেওয়া হয়েছে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর, পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। শহর ও শহরতলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প, দুই ক্ষেত্রেই তাঁর কাজ নজরে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত নগরোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর তাঁর হাতে যাওয়ায় প্রশাসনিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা বাড়বে বলেই অনুমান। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে (Nisith Pramanik) দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন এবং ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই দফতরগুলির কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিশীথের অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার (Ashok Kirtania) হাতে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দফতর। রেশন ব্যবস্থা ও খাদ্য বণ্টন, সব কিছুই এই দফতরের আওতায় পড়ে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতার পরীক্ষা এই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে (Khudiram Tudu)। রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলির উন্নয়ন ও সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই দফতরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুদিরামের ওপর সেই দায়িত্ব বর্তেছে। সরকারি মহলের দাবি, আপাতত বাকি দফতরগুলি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। ‘বাকি দফতর আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর অধীনেই থাকবে’ এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। এদিকে সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে (Nabanna) মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যই। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা (Dushmant Nariyawala) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর সরকার ‘সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে’ এগোবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার যে গতিতে এগোচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই এগোবে’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই দফতর বণ্টনের মাধ্যমে শুভেন্দু তাঁর সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, নগর পরিকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য, এই চারটি ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং আদিবাসী উন্নয়ন আলাদা করে গুরুত্ব পাওয়ায় সেই বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে যে, ভৌগোলিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে সরকার। নতুন সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে অর্থনীতি চাঙা করা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত কাজ করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটে দফতর বণ্টনের এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে শপথের পর এত দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্য রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে বলে মত একাংশের। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির দায়িত্ব যাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রাজনৈতিক গুরুত্বও আগামী দিনে বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, নতুন মন্ত্রিসভার এই দফতর বণ্টন এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar scheme Bengal, Suvendu Adhikari cabinet decision | নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বড় ইঙ্গিত! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ কী চালু হচ্ছে? মহিলাদের ৩০০০ টাকা নিয়ে জোর আলোচনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন