Suvendu Adhikari Nabanna meeting, West Bengal governance | হোর্ডিংয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ নয়, নির্ভয়ে কাজের নির্দেশ শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে (Nabanna) শীর্ষস্তরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিপূজা বা প্রশংসামূলক শব্দবন্ধ দিয়ে কাজ চালানোর কোনও প্রয়োজন নেই। বরং সরকারি কাজ যেন নিয়ম, তথ্য এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে হয়, সেই দিকেই জোর দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘তাঁকে খুশি করার জন্য কাজ করতে হবে না’, পাশাপাশি হোর্ডিং বা ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ ধরনের বাক্যবন্ধ আর ব্যবহার না করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার আইন-শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা (Dushmant Nariyawala), স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ (Sanghamitra Ghosh), রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত (Siddhanath Gupta) এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ (Ajay Nanda) -সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, নির্ভয়ে কাজ করুন’। তাঁর এই মন্তব্যে প্রশাসনের মধ্যে স্বচ্ছতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বার্তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : West Bengal BJP CM oath, Suvendu Adhikari cabinet | ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার, মন্ত্রিসভায় পাঁচ মুখ, দফতর বণ্টন এখনও বাকি

সরকারি কাজের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় খরচ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন শুভেন্দু। বৈঠকে তিনি সচিবদের বলেন, কোথায় ব্যয় প্রয়োজন তা বিচার করে তবেই খরচ করতে হবে। সরকারি অর্থ যেন অপচয় না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে সব ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজের দরকার, সেখানে যেন কোনও রকম কার্পণ্য না করা হয়। ‘প্রয়োজনীয় জায়গায় খরচ হবে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করতে হবে’ এমন নির্দেশই উঠে এসেছে বৈঠক সূত্রে। প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পের প্রচারে নেতার নাম বা প্রশংসাসূচক শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। পূর্বতন সরকারের সময় নানা হোর্ডিং, ফলক বা প্রকল্পের বিজ্ঞাপনে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দবন্ধ প্রায় নিয়মিত ব্যবহার করা হত। সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই নতুন নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এ ধরনের শব্দবন্ধ লেখার দরকার নেই’। ফলে প্রশাসনিক কাজকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বাইরে এনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় ফেরানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, এত দিন যে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে পূর্ণ মাত্রায় চালু হয়নি, সেগুলি দ্রুত কার্যকর করার কথা বলেছেন তিনি। এতে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party, BJP) -এর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানিয়েছেন, ‘সরকার তার নিজের নিয়মে চলবে, দল তার নিজের কাজ করবে’। তাঁর কথায়, ‘এটি কোনও দলের সরকার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার’। এই মন্তব্য প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রশ্নে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat), মহিলা ভাতা এবং বেকার ভাতার মতো প্রতিশ্রুতি দ্রুত কার্যকর করতে দল সরকারের পাশে থাকবে। নবান্নের বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একই সুর শোনা গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘সরকার তথ্য ও নিয়ম মেনে চলে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংবিধানের কাঠামোর ভিতরে থেকে’। তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার “আমিত্বে” বিশ্বাস করে না, “আমরা”-নীতিতে চলবে’। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে সমালোচনার সুযোগ না থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, এই ধরনের নির্দেশের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্তরে নতুন বার্তা দিতে চাইছে সরকার। কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব বা প্রশংসার পরিবর্তে নীতিগত সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি, এই দুই দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। নতুন সরকারের প্রথম দিকের পদক্ষেপ হিসেবেই এই নির্দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ। সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, এই সব পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, West Bengal CM security update |শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় ডাবল কভার: কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ একসঙ্গে, মধ্যমগ্রাম খুনকাণ্ডের পর কড়া নজর প্রশাসনের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন