সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: প্রযুক্তির দ্রুত বদলের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ফের বড় ধাক্কা খেল তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। মার্কিন সংস্থা ডেল টেকনোলজিস -এ গত এক বছরে প্রায় ১১ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন (Dell layoffs)। অবাক করার মতো বিষয়, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া হয়েছে অনেকটাই নীরবে, অনেক কর্মী আগে থেকে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিতই পাননি বলে দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ডেলের সাম্প্রতিক বার্ষিক নথিতে উঠে এসেছে এই তথ্য। সেখানে জানানো হয়েছে, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসার কাঠামো বদলের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুতে কর্মীসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ হাজারে। অথচ এক বছর আগেই সেই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী হারিয়েছে সংস্থাটি।
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে এই ধরনের ছাঁটাই নতুন নয়, কিন্তু ডেলের মতো বড় সংস্থায় এত বড় সংখ্যার কর্মী ছাঁটাই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন এই প্রক্রিয়াকে ‘নিঃশব্দ’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। অনেক কর্মীর বক্তব্য, ‘হঠাৎ করেই জানানো হয় যে আর কাজ নেই, কোনও পূর্বাভাস ছিল না।’ এই পরিস্থিতির পিছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)। গত কয়েক বছরে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংস্থাগুলি কম জনবল দিয়েই বেশি কাজ করতে পারছে। এর জেরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে আইটি সেক্টরে। ডেলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে, এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কর্মী সংখ্যা কমানো হয়েছে।’ সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার অংশ, যাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়।
শুধু কর্মী ছাঁটাই নয়, ক্ষতিপূরণ কাঠামোতেও বদল এনেছে সংস্থাটি। আগে যেখানে সেভারেন্স পে (Severance Pay) বাবদ ৬৯৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ছিল, সেখানে তা কমিয়ে ৫৬৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এক কর্মীর কথায়, ‘চাকরি গেল, তার উপর ক্ষতিপূরণও কম, পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।’ ডেলের এই পদক্ষেপ একক কোনও ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে একাধিক প্রযুক্তি সংস্থা একই পথে হেঁটেছে। খরচ কমানো, মুনাফা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সংস্থাগুলি কর্মী ছাঁটাইকে হাতিয়ার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইটি শিল্প এখন একটি পরিবর্তনের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে এআই এবং অটোমেশন, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পেতে গিয়ে সংস্থাগুলি তাদের কাঠামো বদলাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের উপর। প্রসঙ্গত, ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডেলের মতো বহুজাতিক সংস্থায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মী কাজ করেন। ফলে এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব সরাসরি ভারতীয় চাকরির বাজারেও পড়তে পারে। এআই প্রযুক্তির প্রসার যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সঙ্গে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও ততটাই জোরালো হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতি যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনই পুরনো অনেক কাজকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি শেখার উপর জোর দেওয়ার কথাও উঠে আসছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে নিয়মিত নিজেকে আপডেট রাখা ছাড়া উপায় নেই। ডেলের এই পদক্ষেপ তাই শুধু একটি সংস্থার খবর নয়, বরং গোটা প্রযুক্তি শিল্পের একটি বড় প্রবণতার ইঙ্গিত। কর্মী ছাঁটাই, খরচ কমানো এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা, এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠছে নতুন আইটি ইকোসিস্টেম। বর্তমানে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এটুকু পরিষ্কার, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসছে, এবং সেই পরিবর্তনের অভিঘাত অনুভব করছেন হাজার হাজার কর্মী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Oracle layoffs India, system lockout employees | ওরাকেলে গণছাঁটাই: ভারতে ১২ হাজার কর্মী চাকরি হারালেন, ‘সিস্টেম লক’ করে দিল সংস্থা


