সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সান ফ্রান্সিসকো : ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন (Amazon) একটি ঝলকেই বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যায় বিশাল পরিবর্তন আনল। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই করা হবে। এই সিদ্ধান্তে শুধু কর্মচারীই নয়, সমগ্র কর্পোরেট দুনিয়ায় আলোড়ন পড়েছে। ছাঁটাইয়ের মূল কারণ হিসেবে নাম এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence)। সংস্থার মধ্যে যেসব কাজ মানব-শক্তি দ্বারা করা হত, এখন সেগুলোর অনেকটিই এআই-এর মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। অ্যামাজনের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘‘সংস্থার বর্তমান স্ট্রাকচারের কিছু পুনর্বিন্যাসের জন্য এবং বেসরকারি স্তরগুলোতে রদবদলের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘আমরা জানি এটি কতটা বড় প্রভাব ফেলবে। তাই ১৬ হাজার কর্মীকে ৯০ দিনের ট্রানজিশন পিরিয়ড দেওয়া হবে। এই সময় তারা সংস্থার ভেতরে অন্য কোন পদে কাজ খুঁজে নিতে পারবেন।’’ পাশাপাশি ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য থাকবে সেভারেন্স প্যাকেজ, স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা এবং অন্যান্য সহযোগিতার ব্যবস্থা। অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্তে যে দিকটি বেশি নজর কেড়েছে, তা হল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানবশক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বহীন হওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘বাজারে এখন এআই-এর ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, ডেটা ম্যানেজমেন্ট—যে সব কাজ আগে মানুষ করত, তা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হচ্ছে। তাই বড় কর্পোরেট সংস্থা গুলো এই ধরনের পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে।’’

উল্লেখ্য, এই ছাঁটাই দ্বিতীয় দফার। গত বছর অক্টোবর মাসেই অ্যামাজন ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করার কথা জানিয়েছিল। প্রথম ধাপে প্রায় ১৪,০০০ কর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয় ধাপে ১৬,০০০ কর্মী প্রভাবিত হচ্ছেন। সংস্থার মতে, নতুন এই ব্যবস্থা তাদের কর্মী ও প্রযুক্তির ভারসাম্য রক্ষা করবে। চলতি বছরের এই ছাঁটাইয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কর্পোরেট অফিস, ডেটা অ্যানালিটিক্স, লজিস্টিক্স এবং কাস্টমার সার্ভিসে যে সব কাজ মানবশক্তি দ্বারা সম্পন্ন হতো, সেগুলো এআই-এর মাধ্যমে করা হবে। অ্যামাজনের মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা জানি অনেকেই এই পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত। তবে এআই আমাদের কাজকে দ্রুত ও আরও কার্যকর করবে।’’ কর্মীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন প্রাক্তন কর্মী বলেন, ‘‘রাতারাতি ১৬,০০০ মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই যা কিনা একটি স্থিতিশীল চাকরি মনে করতেন, তা এখন অচল।’’ অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘‘বড় কর্পোরেট সংস্থা গুলোকে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।’’
অ্যামাজনের এই পদক্ষেপ শুধু একটি কোম্পানির সমস্যাই নয়, বরং বৈশ্বিক চাকরির বাজারে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘AI-এর ব্যবহার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বড় বড় সংস্থা ক্রমশ মানবশক্তিকে কমিয়ে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ভবিষ্যতে চাকরি বাজার আরও টেকসই ও দক্ষ হবে, তবে অনিশ্চয়তাও বাড়বে।’’ অন্যদিকে, সংস্থার ভবিষ্যত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য পুনর্বিন্যাস ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সংস্থার মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা শুধু ছাঁটাই করছি না, একই সঙ্গে নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টিমকে শক্তিশালী করব।’’ অর্থাৎ, এআই ব্যবহারের পাশাপাশি সংস্থার কর্মী নীতি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হচ্ছে।
এবারের ছাঁটাইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা নিয়ে জল্পনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘এই পদক্ষেপ অন্য কর্পোরেট সংস্থাগুলোর জন্যও এক ইঙ্গিত। এআই কেবল একটি উদ্ভাবন নয়, এটি ভবিষ্যতের কর্পোরেট পৃথিবীর একটি অংশ।’’ সামগ্রিকভাবে উল্লেখ যে, অ্যামাজনের এই পদক্ষেপ চাকরির বাজারে এক বড় সংকেত দিয়েছে। ১৬ হাজার কর্মীর চাকরি যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এআই-এর ব্যবহার কর্মীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Palash Muchhal controversy | স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরেই নতুন বিতর্ক! ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে বিদ্ধ পলাশ মুচ্ছল, পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি সঙ্গীতশিল্পীর




