সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘অভিজ্ঞতা’ নতুন রেকর্ড গড়ল। জাতীয় অভিজ্ঞতা পুরস্কার প্রকল্প ২০২৬ (National Anubhav Awards Scheme 2026) -এর আওতায় এবার মোট ২১৪১টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যা এই কর্মসূচির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পেনশন ও পেনশনভোগী কল্যাণ বিভাগ (Department of Pension and Pensioners’ Welfare বা DoPPW) -এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগটি প্রথম শুরু হয়েছিল মার্চ ২০১৫ সালে। এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য, অবসরপ্রাপ্ত এবং অবসরোন্মুখ সরকারি কর্মীদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের নানা বাস্তব দিককে নথিভুক্ত করা। এর ফলে দেশের প্রশাসনিক ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে একজন অধিকর্তা জানান, ‘অভিজ্ঞতা প্রকল্প শুধু স্মৃতিচারণ নয়, এটি প্রশাসনিক জ্ঞান সংরক্ষণের একটি কার্যকর মাধ্যম।’ এই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা লিখে জমা দেন, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে জাতীয় অভিজ্ঞতা পুরস্কার। এর লক্ষ্য, সেরা অবদানকারীদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্যদেরও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। এখনও পর্যন্ত মোট ৬৩টি জাতীয় অভিজ্ঞতা পুরস্কার এবং ২৯টি জুরি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে, যা এই উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতাকে তুলে ধরে। প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ সালের জন্য বিশেষভাবে একটি বিস্তৃত সচেতনতা অভিযান চালানো হয়, যার ফলেই অংশগ্রহণের সংখ্যা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রচার কর্মসূচির অন্তর্গত ছিল বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ, একটি নির্দিষ্ট হেল্প ডেস্ক চালু করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্যভিত্তিক ভিডিও প্রচার। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের নোডাল আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমেও এই উদ্যোগকে আরও প্রসারিত করা হয়।
এই প্রচারের ধরনও ছিল বহুমাত্রিক। ফোন কল, ইমেল, ভিডিও বার্তা, আমন্ত্রণপত্র এবং বিশেষ তথ্যসম্বলিত কিট পাঠানোর মাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এছাড়াও ওয়েবিনারের মাধ্যমে প্রবীণ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা আয়োজন করা হয়, যাতে তাঁরা সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই চলতি বছরে প্রবন্ধ জমা ও প্রকাশের সংখ্যা পৌঁছেছে ২১৪১-এ। প্রশাসনিক মহলে এই সংখ্যাকে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি কর্মীদের মধ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা নথিভুক্ত করার আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। আগামী জাতীয় অভিজ্ঞতা পুরস্কার অনুষ্ঠান ২০২৬-এ এই ২১৪১টি প্রবন্ধের মধ্যে থেকে সেরা ১৫টি নির্বাচন করা হবে। এই নির্বাচিত প্রবন্ধগুলির মধ্যে ৫টি জাতীয় পুরস্কার এবং ১০টি জুরি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এই বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রের বহু অজানা দিক সামনে আসছে। সরকারি কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি একটি জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি করছে, যা গবেষক ও নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। অভিজ্ঞতা প্রকল্পের এই সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। সরকারি কর্মীদের অভিজ্ঞতা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক জ্ঞানের ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হবে, যা দেশের উন্নতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করবে বলেই উল্লেখ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Railways passenger experience, Ashwini Vaishnaw railway meeting | গরিব ও মধ্যবিত্তের আরামদায়ক যাত্রায় জোর ভারতীয় রেলে, দুর্ঘটনা কমায় সন্তোষ, নতুন নির্দেশে স্টেশন সংস্কার ও আন্ডারপাসে গুরুত্ব


