SAMPANN Platform India Digital Governance | ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থা, গোয়া ও কোচিন পোর্টে ‘সাম্পন’ চালু, কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও নাগরিককেন্দ্রিক করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। টেলিযোগাযোগ দফতরের তৈরি অত্যাধুনিক পেনশন ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘সাম্পন’ (SAMPANN বা System for Accounting and Management of Pension) এবার ব্যবহৃত হবে গোয়া (Goa) রাজ্য সরকার এবং কোচিন পোর্ট অথরিটি (Cochin Port Authority বা CPA) -তে। এই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া (Jyotiraditya M. Scindia)। তিনি জানান, ‘সাম্পন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমরা পরিষেবাকে নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ধারণাকে আরও বিস্তৃত করছি।’ তাঁর মতে, এই উদ্যোগ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তুলবে। এই চুক্তিতে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতরের কন্ট্রোলার জেনারেল অব কমিউনিকেশন অ্যাকাউন্টস (Controller General of Communication Accounts বা CGCA) -এর প্রতিনিধিত্ব করেন জি সন্দীপ কুমার গৌড় (G. Sandeep Kumar Goud)। কোচিন পোর্ট অথরিটির তরফে স্বাক্ষর করেন কাসিভিশ্বনাথ (Kasivishwanath) এবং গোয়া সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন শাকিল উল রহমান রাথের (Shakeel Ul Rehman Rather)। ‘সাম্পন’ একটি ক্লাউড-ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, যা পেনশন সংক্রান্ত সমস্ত কাজ, আবেদন শুরু থেকে অর্থ বিতরণ পর্যন্ত, একই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India) মিশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন : Samrat Samprati Museum Gujarat, Narendra Modi Mahavir Jayanti Speech | মহাবীর জয়ন্তীতে ঐতিহ্যের মহাসংগ্রহ: কোবা তীর্থে ‘সম্রাট সম্প্রতি’ মিউজিয়াম উদ্বোধনে মোদীর জোর, ভারতের জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিশ্ববার্তা

বর্তমানে ‘সাম্পন’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১,৬৫০ কোটি টাকা পেনশন বিতরণ করা হচ্ছে। মোট বিতরণকৃত অর্থ ইতিমধ্যেই প্রায় ৭২,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সিন্ধিয়া (Jyotiraditya M. Scindia) বলেন, ‘আগে নাগরিকদের সরকারী পরিষেবা পেতে অফিসে ঘুরতে হত, এখন প্রশাসনই নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।’ এই পরিবর্তনকে তিনি আধুনিক প্রশাসনিক ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন। গোয়া সরকার এবং কোচিন পোর্ট অথরিটির এই প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করার ফলে পেনশন ব্যবস্থাপনায় দ্রুততা এবং নির্ভুল বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হবে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, একটি পরীক্ষিত জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার ফলে নতুন করে প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজন কমবে এবং সময় বাঁচবে। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি সফটওয়্যার ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ বলেই উল্লেখ। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি একীভূত ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি করাই এর লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ‘সাম্পন’ সম্পর্কিত একটি কফি টেবিল বুকও প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (Digital Public Infrastructure) ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এই বইয়ে দেখানো হয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি পরিষেবাকে আরও কার্যকর এবং স্বচ্ছ করা সম্ভব। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে নাগরিকদের প্রয়োজনই হবে কেন্দ্রবিন্দু।’ তাঁর মতে, ‘সেবা আগে, দেশ আগে’ এই ভাবনাকে সামনে রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও তিনি ডাক দফতর (Department of Posts বা DoP) এবং টেলিযোগাযোগ দফতরকে নির্দেশ দেন যাতে ভবিষ্যতে ‘সাম্পন্ন’ প্ল্যাটফর্মে আরও পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এই পরিষেবার আওতায় আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষে সিজিসিএ (CGCA) -এর পক্ষ থেকে বন্দনা গুপ্তা (Vandana Gupta) ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘পেনশনভোগীরা কোনও একটি দফতরের নয়, তাঁদের সবার জন্যই সেরা পরিষেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’ এই বক্তব্যে প্রশাসনের মানবিক দিকটিও উঠে আসে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কার এখন ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার। ‘সাম্পন্ন’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। গোয়া এবং কোচিন পোর্টে এই উদ্যোগের সূচনা ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্য ও সংস্থার জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। ভারতের ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই ধরনের উদ্যোগ যে বড় ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে নাগরিক পরিষেবাকে সহজলভ্য করার এই প্রচেষ্টা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News