সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিল বামফ্রন্ট (CPIM candidates West Bengal election)। মোট ১৯২টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকা প্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে এবারের নির্বাচনে বামফ্রন্ট একদিকে যেমন নতুন মুখদের সামনে আনছে, তেমনই অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদেরও লড়াইয়ের ময়দানে নামাচ্ছে। এই তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে, যাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে লড়াই করবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে বাম শিবির এবার সংগঠনকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে যাদবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন। এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে (Bikash Ranjan Bhattacharya)। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

গত কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিকাশরঞ্জন। বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা, ডিএ সংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে তিনি একাধিক মামলা লড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ রায় এসেছে। বিশেষ করে চাকরি বাতিল মামলায় তাঁর ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে উল্লেখযোগ্য বলে ধরা হয়। বামফ্রন্টের তরুণ মুখদের মধ্যে অন্যতম হলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Meenakshi Mukherjee)। তাঁকে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। বাম রাজনীতিতে তিনি ‘ক্যাপ্টেন’ নামেই পরিচিত। আগেও তিনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। এমনকি রাজ্যের দুই প্রভাবশালী নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর বিরুদ্ধেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জিততে পারেননি। তাঁর বক্তৃতার ধরণ এবং সরাসরি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষণের জন্য তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, সর্বত্র তাঁর সভা ও মিছিল নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব বাড়ছে।
প্রবীণ নেতাদের তালিকায় অন্যতম নাম দেবলীনা হেমব্রম (Debolina Hembram)। তাঁকে রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। এছাড়া ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য -এর মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেবলীনাকে সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলা সিপিএমের সম্পাদকও করা হয়েছে। সিপিএমের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মহিলা এই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন। ফলে তাঁর প্রার্থী হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মহেশতলা কেন্দ্র থেকে লড়বেন তরুণ আইনজীবী ও সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (Sayan Banerjee)। তিনি বামেদের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম মুখ। এর আগে লোকসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের Debangshu Bhattacharya এবং বিজেপির Abhijit Gangopadhyay-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে জয় পাননি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দলের কর্মীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন কলতান দাশগুপ্ত (Kaltan Dasgupta)। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডের সময় তাঁর বিরুদ্ধে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি জামিন পান এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি বামেদের মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিত। এদিকে দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন বাম যুব নেত্রী দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের Rana Chatterjee এবং বিজেপির Vaishali Dalmiya -এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার ভোটে তিনি পরাজিত হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি তিনি। তবুও সংগঠনের তরুণ মুখ হিসেবে তাঁকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে বামফ্রন্ট। প্রসঙ্গত, বামফ্রন্টের প্রথম প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বাম শিবির। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ময়দানে এই প্রার্থী তালিকা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : voter list adjudication West Bengal | ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষের নিষ্পত্তি! দ্রুত বাকি কাজ শেষের আশায় নির্বাচন কমিশন




