সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা (Voter list) ঘিরে বড় আপডেট সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে জানাল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) জানান, ‘বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত বাকি কাজও সম্পন্ন হবে।’ নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে বিশেষ সমীক্ষা বা এসআইআর (Special Intensive Revision) -এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত ব্যক্তি, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ভোটার কিংবা যাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায়। অর্থাৎ, তাঁদের তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য রাজ্যে নিযুক্ত করা হয়েছে মোট ৭০৫ জন বিচারককে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই বিচারকেরা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকদের এই কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘আমরা চাইছি বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি হোক। আগামী ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে নির্বাচন কমিশন সময়সীমার মধ্যেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য বিশেষভাবে উদ্যোগী।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, মালদহ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। কিন্তু একই সঙ্গে ওই জেলায় বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই এবং তালিকা চূড়ান্ত করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ ভোটার তালিকা সঠিক না হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। এদিকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা বিচার করার জন্য একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইবুনালে থাকবেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিরা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant) -এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকার নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাই কোর্ট যে বিচারকদের দায়িত্ব দিয়েছে, সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অর্থাৎ বিচারকেরাই স্বাধীনভাবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন রবিবার আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিচারকদের হাতে কতটা সময় রয়েছে? নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম শেষ পর্যন্ত সংশোধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁরা ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচনের আগের সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো বড় রাজ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সবসময়ই একটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই মিটতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে নিষ্পত্তি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন আশাবাদী যে বাকি কাজও খুব দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Tej Pratap Yadav West Bengal election | বিহারে ব্যর্থতার পর নজর বাংলায়! পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজপ্রতাপ যাদবের, জোট না একা? রইল রহস্য




