সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচি: কেরলের অবকাঠামো, শিল্প এবং জ্বালানি খাতকে নতুন গতি দিতে একাধিক বড় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কেরলের এর্নাকুলাম ও কোচি অঞ্চলে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে তিনি জানান, এই উদ্যোগগুলি রাজ্যের শিল্প বিকাশ, পর্যটন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে তুলবে। কেরলের প্রাণকেন্দ্র কোচি সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং কয়েকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোচিতে আসা সবসময়ই একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। আজ যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলি শুরু হল, তার জন্য কেরলের মানুষকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’ তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি শুধু রাজ্যের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং আগামী দিনে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বড় ভূমিকা নেবে। এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল কোচি রিফাইনারিতে নতুন পলিপ্রোপিলিন ইউনিট স্থাপন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর কোচি রিফাইনারি কমপ্লেক্সে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ইউনিট থেকে বছরে প্রায় চার লক্ষ টন পলিপ্রোপিলিন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্যাকেজিং, টেক্সটাইল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল উৎপাদনের ফলে দেশীয় শিল্পে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করতে পেট্রোলিয়াম খাতের সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর মতে, এই ধরনের শিল্প প্রকল্প ভারতের উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। শুধু শিল্প নয়, নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেরলের পশ্চিম কল্লাডা এলাকায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল রাজ্যে সবুজ শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেরলে অসংখ্য জলাধার রয়েছে, তাই এখানে ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্রকল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেরলকে সৌর শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
উন্নত অবকাঠামো নির্মাণকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে ভারতের বিনিয়োগের জন্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের প্রশংসা করছে। সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় বাজেটেও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিশ্ব আধুনিক অবকাঠামোয় ভারতের বিনিয়োগকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই বিনিয়োগের সুফল কেরলও পাচ্ছে।’ তাঁর মতে, উন্নত রেল, সড়ক এবং জ্বালানি অবকাঠামো রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম (Amrit Bharat Station Scheme)’ -এর আওতায় কেরলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শোরানুর জংশন, কুট্টিপুরম রেলওয়ে স্টেশন এবং চাঙ্গানাস্সেরি রেলওয়ে স্টেশন।
এছাড়াও নতুন পালাক্কাড-পোল্লাচি রেল পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে কেরল এবং তামিলনাড়ুর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে দুই রাজ্যের মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক বড় প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নতুন ছয় লেনের সড়ক প্রকল্প এবং কোঝিকোড় বাইপাস সম্প্রসারণ। পাশাপাশি আজিক্কাল বন্দর-এর সঙ্গে উন্নত সড়ক সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলির ফলে যাতায়াতের সময় কমবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং বাণিজ্যিক পরিবহন আরও দ্রুত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্ত প্রকল্পের ফলে কেরলের কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।’ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করা প্রতিটি টাকা দেশের যুব সমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রকল্পগুলি শুধু বর্তমান অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করে না, ভবিষ্যতের উন্নয়নের ভিত্তিও তৈরি করে।
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘এই বহুমুখী প্রকল্পগুলি কেরলের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে এই উদ্যোগগুলি ‘বিকশিত কেরল’ গড়ার লক্ষ্যে বড় ভূমিকা পালন করবে।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প, জ্বালানি, পরিবহন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি, এই চারটি খাতকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে কেরলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশলকেও আরও শক্তিশালী করবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : LPG crisis India, Narendra Modi gas supply meeting | হরমুজ প্রণালী সঙ্কটে ভারতে রান্নার গ্যাসের চাপ, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক




