India Russia oil supply | ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ছায়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা: ‘প্রয়োজনে তেল দেব’, মস্কোর আশ্বাসে কৌশলগত বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল উত্তেজনা যখন তীব্রতর, তখন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিল মস্কো। রাশিয়া (Russia) জানিয়ে দিয়েছে, ‘ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হলে আমরা তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।’ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরান (Iran) ও আমেরিকার (United States) মধ্যে চলমান সংঘাত, তার সঙ্গে ইজরায়েলের (Israel) সামরিক পদক্ষেপ, এসব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধাবস্থা বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের তরফে অভিযোগ, তাদের উপর হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন কেন্দ্র ও তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানার খবর মিলছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। সেই পথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় জ্বালানি রফতানিতে ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে, ‘এই মুহূর্তে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।’ তবুও দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটের সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিকল্প উৎসের আশ্বাসকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বার্তা স্পষ্ট, ভারত যদি জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়ে, তবে মস্কো পাশে থাকবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর দেশের এই অবস্থানকে কৌশলগত বলেই ব্যাখ্যা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের মতে, ‘ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মস্কোর এই আশ্বাস দিল্লির জন্য স্বস্তিদায়ক।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানার ঘোষণা করেছিল। পরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতায় সেই শুল্কের হার কমে ১৮ শতাংশে নামে। যদিও পরবর্তীকালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of the United States) ট্রাম্পের শুল্ক সংক্রান্ত নির্দেশ খারিজ করে দেয়। তবুও ট্রাম্প ১৫ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখার ঘোষণা করেছিলেন বলে জানা যায়। আমেরিকার তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, ‘মার্কিন সতর্কবার্তার পরে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে।’ তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারত তার জ্বালানি উৎস বহুমুখী করার কৌশল নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশ,এ সব কিছু নিয়ে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে নতুন দিল্লি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনও ভারত ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে জ্বালানি ও শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে। এই আবহে রাশিয়ার ‘প্রয়োজনে সরবরাহ জারি রাখব’ বার্তা দিল্লির কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জ্বালানি অর্থনীতির বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির থাকলেও দীর্ঘ সময় সরবরাহের নিশ্চয়তা সবচেয়ে বড় বিষয়। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির অন্যতম। ফলে যে কোনও আন্তর্জাতিক সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। শিল্প উৎপাদন, পরিবহণ ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা প্রভাব ফেলে। একজন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকের কথায়, ‘রাশিয়ার এই আশ্বাস শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত বার্তাও বটে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মস্কো দিল্লির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।’ একই সঙ্গে এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখছে।

ভারত সরকার অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতের মধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নে রাশিয়ার আশ্বাস নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দিল্লি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত মস্কোর বার্তা স্পষ্ট ‘ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমরা প্রস্তুত।’

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Venezuela Oil Export | ভেনেজুয়েলার তেল ফের ভারতে: শেভরনের মাধ্যমে রিলায়্যান্সের বড় আমদানি, জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন