Yubasathi Scheme | ভোটের আগে যুবসাথী ঝড়! ৮৪ লক্ষের বেশি আবেদন, ১ এপ্রিলেই কী অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫০০ টাকা? নজরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চর্চার কেন্দ্রে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ৮৪ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত। অফলাইন শিবির ও অনলাইন পোর্টাল দুই পথেই বিপুল সাড়া মিলেছে। এখন বড় প্রশ্ন, ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকেই কি প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে, নাকি নির্বাচনী নির্ঘণ্টের কারণে বদলে যেতে পারে সেই পরিকল্পনা? সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্লকভিত্তিক শিবিরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন ৬৫ লক্ষ ৫৭৯ জন। অন্যদিকে নির্দিষ্ট ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করেছেন প্রায় ১৯ লক্ষ প্রার্থী। শেষ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইন আবেদন চালু থাকায় চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা প্রশাসনের। অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, মোট আবেদনসংখ্যা ৮৪ লক্ষ অতিক্রম করেছে।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee, Banglar Yuvasaathi scheme | ১ এপ্রিল থেকেই শুরু ‘বাংলার যুবসাথী’ ভাতা : দশম শ্রেণি পাশ বেকার যুবকদের মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন রাজ্য জুড়ে শিবির করে ফর্ম বিতরণ ও গ্রহণের কাজ শুরু হয়। ঘোষণার পর থেকেই ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো ছিল। এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপভোক্তাকে মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সহায়তা চালু রাখার কথাও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পূর্বে ঘোষণা করেছিলেন, ‘১ এপ্রিল থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।’ তাঁর এই ঘোষণার পর আবেদন জমার গতি আরও বেড়ে যায়। কিন্তু, প্রশাসনিক অন্দরে অন্য আলোচনাও চলছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ পেরলেই যে কোনও সময় বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। নির্ঘণ্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিস্থিতিতে নতুন প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। ফলে অনেকের ধারণা, নির্বাচন পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থপ্রদান স্থগিত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট অধিবেশনে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) প্রকল্পটির সূচনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় জানানো হয়েছিল, ১৫ আগস্ট থেকে এটি চালু করা হবে। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা জানান। ঘোষণার পরপরই জেলা ও ব্লক প্রশাসনকে দ্রুত শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের একজন আধিকারিকের কথায়, ‘অভূতপূর্ব ভিড় হয়েছে। বহু জায়গায় লাইন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কর্মী রাখতে হয়েছে।’ আবেদনপত্র যাচাই, নথি স্ক্যান ও আপলোডের জন্য বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছিল। অনলাইন পোর্টালেও শেষ মুহূর্তে চাপ বেড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বহু আবেদনকারী জানিয়েছেন, শিবিরভিত্তিক ব্যবস্থায় আবেদন জমা দেওয়া সহজ হয়েছে। যাঁদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় অসুবিধা ছিল, তাঁরা সরাসরি ব্লক অফিস বা নির্ধারিত শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করেছেন। শহরাঞ্চলে বড় অংশ অনলাইনেই আবেদন করেছেন। প্রশাসনের মতে, দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু রাখার ফলেই এত বিপুল সাড়া মিলেছে।

আবেদনকারীদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাসিক ১৫০০ টাকা সামান্য হলেও কাজে লাগবে। এক তরুণ আবেদনকারী বলেন, ‘নিয়মিত কাজ নেই। এই টাকাটা পেলে অন্তত ব্যক্তিগত খরচের চাপ কিছুটা কমবে।’ আরেকজনের কথায়, ‘চাকরির সুযোগ সীমিত। ভাতা পেলে প্রশিক্ষণ বা কোর্স করার খরচ জোগাড় করা সহজ হবে।’ অন্যদিকে, এত বিপুল আবেদন যাচাই করা বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। প্রত্যেক আবেদনকারীর বয়স, বেকারত্বের নথি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভুল তথ্য বা পুনরাবৃত্ত আবেদন রুখতে ডিজিটাল স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্থপ্রদান শুরু করা প্রশাসনিকভাবে কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলেও প্রকল্পটি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। শাসক শিবিরের দাবি, যুবকদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, ঘোষিত সময়ে টাকা না পৌঁছলে আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। যদিও সরকারপক্ষ বলছে, ‘প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।’ এখন নজর ১ এপ্রিলের দিকে। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে যদি অর্থপ্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা হলে প্রথম কিস্তি সময়মতো পৌঁছতে পারে। অন্যথায় ভোটপর্ব মিটে গেলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর প্রত্যাশা, ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা মিলুক।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Study in India 2026, Dharmendra Pradhan | স্টাডি ইন ইন্ডিয়া কনক্লেভ ২০২৬: নতুন দিল্লিতে ৫০ দেশের কূটনীতিকদের সামনে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষায় বড় আহ্বান ভারতের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন