Study in India 2026, Dharmendra Pradhan | স্টাডি ইন ইন্ডিয়া কনক্লেভ ২০২৬: নতুন দিল্লিতে ৫০ দেশের কূটনীতিকদের সামনে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষায় বড় আহ্বান ভারতের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : নতুন দিল্লিতে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা সহযোগিতাকে নতুন গতি দিতে অনুষ্ঠিত হল ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এডুকেশন-ডিপ্লোম্যাটিক কনক্লেভ ২০২৬’। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) সুষমা স্বরাজ ভবনে আয়োজিত এই সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত, উচ্চকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই কনক্লেভে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, গবেষণা সহযোগিতা, ছাত্র বিনিময় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘ভারত বিশ্বকে আহ্বান জানায় এখানে এসে পড়ুন, গবেষণা করুন, উদ্ভাবন করুন এবং একসঙ্গে উন্নতির পথ তৈরি করুন।’ তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে, তা ভারতের উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য। ‘স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আমরা এক উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখি, আর সেই যাত্রায় শিক্ষা অন্যতম চালিকাশক্তি।’

আরও পড়ুন : Narendra Modi on budget | যুবশক্তির স্বপ্নের বাজেটেই বিকশিত ভারতের রোডম্যাপ, কৃষি-শিক্ষা-নারী উন্নয়নে নতুন পথ দেখালেন নরেন্দ্র মোদী

এই কনক্লেভে বিশেষ গুরুত্ব পায় জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ (National Education Policy 2020)। মন্ত্রী জানান, নতুন নীতির মাধ্যমে বহুমুখী শিক্ষা, দক্ষতা বিকাশ, প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষণপদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘মানসম্মত ও সুলভ শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা উদ্ভাবন-চালিত এক একাডেমিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলছি।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও টেকসই শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে উঠে আসছে বলেও তিনি জানান। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশী (Vineet Joshi) বলেন, ‘গত ছয় বছরে উচ্চশিক্ষা সংস্কারে একটি সুসংহত দিশা তৈরি হয়েছে। বহুমুখী পাঠক্রম, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং আন্তর্জাতিকীকরণে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যৌথ ও দ্বিভাষিক প্রোগ্রাম চালু করছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়াতে উদ্যোগী হচ্ছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission) ২০২৩ সালের বিধিমালার মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ কাঠামো দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও আমেরিকার একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কনক্লেভের বিভিন্ন অধিবেশনে ‘ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম’কে বৈশ্বিক অ্যাকাডেমিক অফার হিসেবে উপস্থাপন, এসপিএআরসি ও জিআইএএন কর্মসূচির মাধ্যমে অংশীদারিত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তি, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন এবং দক্ষতা কাঠামোর আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। ‘ইন্ডিয়া ইনোভেটস ২০২৬’ শীর্ষক সেশনেও ভারতের গবেষণা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তুলে ধরা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের জননৈতিক সুবিধা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং প্রাণবন্ত জ্ঞান-ব্যবস্থার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘আজকের অনিশ্চিত ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বপরিস্থিতিতে শিক্ষা সমাজগুলির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সেতু।’ তাঁর আহ্বান, বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যেন ভারতের দ্রুত বিকাশমান, উদ্ভাবন-চালিত ও বহু-বিষয়ক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে হাত মেলায়।

‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, দ্বৈত ডিগ্রি, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং শিক্ষক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়, কূটনৈতিক মিশনের সক্রিয় অংশগ্রহণে অংশীদার দেশগুলির ছাত্রদের ভারতে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কূটনীতিকেরা ভারতের শিক্ষা অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণব্যবস্থা এবং গবেষণার পরিবেশ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরাও বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস গঠনে সহায়ক কাঠামো, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং গুণমান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করা হয়। উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রক জানায়, উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক ছাত্র-গতিশীলতা, যৌথ প্রোগ্রাম এবং গবেষণা অংশীদারিত্ব বাড়াতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা হবে। ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এডুকেশন-ডিপ্লোম্যাটিক কনক্লেভ ২০২৬’ ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বার্তা একটাই যে পড়াশোনা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য এই দেশ উন্মুক্ত, এবং অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে জ্ঞান-বিনিময়ের পথ আরও বিস্তৃত করতে প্রস্তুত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SpaceX Dragon, Bone Cell Study | মহাকাশে হাড়ের কোষ গবেষণায় নতুন দিগন্ত, ড্রাগনের কক্ষপথ সমন্বয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন