সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়ল। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনার আবহে চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আনল তেহরান। ইরানি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আয়াতোল্লার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। তবে তিনি ‘প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন’ বলেই দাবি করা হয়েছে। যদিও হামলার সময়, স্থান কিংবা প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) -এর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে কয়েকটি নাম ঘোরাফেরা করলেও হঠাৎ করেই সামনে আসে মোজতবা খামেনেইয়ের নাম। একটি ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে (Masoud Pezeshkian) নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল নাকি মোজতবার নামেই সিলমোহর দিয়েছে। যদিও এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার। মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনসুলেট জেনারেল স্পষ্ট জানায়, ‘মোজতবাকে উত্তরসূরি করা হয়েছে, এমন প্রতিবেদন সঠিক নয়।’
এই জল্পনার মধ্যেই ইজরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ় (Israel Katz) বুধবার একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের পরবর্তী ধর্মীয় নেতা যে-ই হোন না কেন, কিংবা তিনি যেখানে লুকিয়ে থাকুন, তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।’ তাঁর অভিযোগ, নতুন নেতা ইজরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবেন এবং আমেরিকার বিরুদ্ধেও আগ্রাসী অবস্থান নেবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়ন বাড়বে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই ইরানি সূত্রের তরফে জানানো হয়, মোজতবা খামেনেইয়ের উপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইজরায়েল-মার্কিন যৌথ বাহিনী এই অভিযানে যুক্ত ছিল। তবে হামলা কোথায় এবং কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির নীতিনির্ধারণ, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পদে থাকা ব্যক্তির ভূমিকা নির্ণায়ক। ফলে উত্তরসূরি নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের কৌতূহল স্বাভাবিক। বিশেষ করে ইজরায়েল-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) -এর সরকারের কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান সরাসরি কিংবা পরোক্ষে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ চালায়। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক কোনও উচ্চপদে আসীন নন, তবু বিভিন্ন মহলে তাঁর প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর নাম উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কিন্তু, ইরানের সরকারি অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। তেহরান আনুষ্ঠানিক ভাবে পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম ঘোষণা করেনি। ফলে মোজতবা খামেনেইকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জল্পনা ও হামলার দাবি, দুই-ই এখন অনিশ্চয়তার আবহে ঘেরা।
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি আরও তীব্র হয়, তা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং পশ্চিম এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্নে উত্তেজনা বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও কোনও পক্ষই নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় না, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে হামলার দাবি সেই অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India fuel reserve update, Hormuz Strait oil supply impact | হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিধিনিষেধ, তবু আশ্বস্ত দিল্লি ‘পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত’, জানাল মোদী সরকার




