AJUP, Humayun Kabir | হুমায়ুন কবীরের দলে বড় রদবদল: আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে সিলমোহর নির্বাচন কমিশনের, প্রতীক পেতে শুরু নতুন লড়াই

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর রাজনৈতিক দল অবশেষে পেল নতুন নাম এবং প্রাথমিক স্বীকৃতির পথ। ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নাম নিয়ে জটিলতার জেরে নির্বাচন কমিশন যে আপত্তি তুলেছিল, তা কাটিয়ে এখন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর হয়েছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে হুমায়ুনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress বা TMC) -এর তরফে সাসপেন্ড হওয়ার পরই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় একটি জনসভা থেকে তিনি নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’, সংক্ষেপে জেইউপি (JUP)। সেই সভা থেকেই তিনি জানান, ‘সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।’ কিন্তু নামের ক্ষেত্রেই তৈরি হয় জটিলতা।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতর কিছু দিন আগে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সুপারিশ পাঠালেও পরে জানা যায়, একই নামে ইতিমধ্যেই একটি দল নির্বাচন কমিশনের নথিভুক্ত রয়েছে। জনৈক রুহুল আমিন (Ruhul Amin) ওই নামেই আগে আবেদন করে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। ফলে একই নামে আরেকটি দলকে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়, এমন অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীর কমিশনের নির্দেশ মেনে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, ‘নাম নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি রাখতে চাই না। তাই দলের নামের আগে “আম” শব্দটি যুক্ত করছি।’ সেইমতো নতুন নাম হয় ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’, যার সংক্ষিপ্ত রূপ এজিইউপি (AJUP)। অবশেষে সেই নামেই রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন বলে উল্লেখ। এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পেতে হলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। সেই বিজ্ঞাপনে দল গঠনের বিবরণ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং আপত্তি জানানোর সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও আপত্তি না এলে কমিশন দলটিকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এরপরই প্রতীক বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ‘আম’ শব্দটি যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘আম জনতা’ শব্দবন্ধটি ভোটারদের কাছে আবেগতাড়িত আবেদন তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক যাত্রাপথও কম নাটকীয় নয়। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির ইঙ্গিত দেন। বেলডাঙার সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি বিকল্প রাজনৈতিক পথের পক্ষে লড়াই করতে চাই।’ সেই ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই দলের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় তাঁর সমর্থকরা উৎসাহিত।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নতুন দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে? বিশেষত মুর্শিদাবাদ জেলা এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত প্রভাব রয়েছে বলেই অনেকে মনে করেন। তবে সংগঠন গড়ে তোলা, বুথস্তরে কর্মী তৈরি এবং নির্বাচনী প্রতীক পাওয়া, এই সব ধাপ অতিক্রম করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই দলের সাংগঠনিক কাঠামো প্রকাশ্যে আনা হবে বলে জানা গিয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মূল পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে শিগগিরই। হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি, ‘দলকে তৃণমূল স্তর থেকে শক্তিশালী করাই এখন লক্ষ্য।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির যে পুনর্গঠন চলছে, সেখানে ছোট আঞ্চলিক দলের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ সেই জায়গায় কতটা জায়গা করে নিতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে নাম পরিবর্তনের জট কাটিয়ে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া নিঃসন্দেহে হুমায়ুন কবীরের জন্য বড় সাফল্য। এখন নজর প্রতীকের দিকে। কারণ প্রতীক ছাড়া নির্বাচনী লড়াই কার্যত অসম্ভব। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পেলে এবং প্রতীক বরাদ্দ হলে আগামী পঞ্চায়েত বা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘নাম পরিবর্তনই ছিল প্রথম বাধা, তা পেরনো গিয়েছে। এখন সংগঠন বিস্তারই আসল পরীক্ষা।’ উল্লেখ্য, ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দলের সূচনা করলেন হুমায়ুন কবীর। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এই নতুন দলের উপস্থিতি ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nitin Nabin Bengal rally | কোচবিহারে পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা নীতিন নবীনের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন