সাশ্রয় নিউজ ★ আহমেদাবাদ : পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এখনও চলমান, আর তার আগেই গুজরাটে (Gujarat) প্রকাশিত হল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে শাসক দল প্রক্রিয়াকে ‘স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক’ বলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি যে ‘অসংখ্য বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, প্রকাশ্যে আসুক বুথভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য।’ প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে গুজরাট জুড়ে চলেছে নিবিড় পরিমার্জন অভিযান। নির্বাচন দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার ৭২৫ জন নাগরিকের। গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকার তুলনায় প্রায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তবে একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নাম বাদও গিয়েছে মোট ৭৭.৬ লক্ষ ভোটারের নাম আর চূড়ান্ত তালিকায় নেই।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রথম ধাপে প্রায় ৭৩.৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে আরও ৩.৯ লক্ষ নাম তালিকা থেকে সরানো হয়। নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, ‘তথ্য হালনাগাদের প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর, মৃত্যু, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ও অনুপস্থিতির মতো কারণেই নাম বাদ গিয়েছে।’ সরকারি তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে। ৯.৮ লক্ষ ভোটারকে তাঁদের নথিভুক্ত ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার ৩.৮ লক্ষ ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম দুই জায়গায় থাকার অভিযোগ মিলেছে। কমিশনের দাবি, ‘ডেটা পরিশোধন’ বা তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গুজরাট বিজেপির (Bharatiya Janata Party) মুখপাত্র অনিল পটেল (Anil Patel) বলেন, ‘ডুপ্লিকেট নাম বা মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থাকা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর। নিবিড় পরিমার্জনের মাধ্যমে সেই ত্রুটিই সংশোধন করা হয়েছে। যারা ১ জানুয়ারির মধ্যে ১৮ বছরে পা দিয়েছেন, তাঁরা এখনও ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নাম তুলতে পারবেন। কোনও সংশোধনের প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬, ৭ বা ৮ ব্যবহার করা যাবে।’ তাঁর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনের তথ্যই চূড়ান্ত। অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’ বিজেপির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছে।’ এই প্রসঙ্গে অনিল পটেল সরাসরি কংগ্রেসের (Indian National Congress) দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নেতৃত্বে কংগ্রেস মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।’ অন্যদিকে, গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি অমিত ছাবড়া (Amit Chavda) সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে যে নিবিড় পরিমার্জন শুরু হয়, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে। বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন ঠিকই, কিন্তু প্রক্রিয়ায় ব্যাপক চাপ ছিল। খসড়া তালিকায় প্রায় ৭৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হলেও বহু বৈধ নাম বাদ গিয়েছে।’
অমিত ছাবড়ার দাবি, ‘নির্বাচন কমিশনের উচিত বুথভিত্তিক বিশদ তথ্য প্রকাশ করা। কারা ফর্ম-৭ জমা দিয়েছেন, কোন ভিত্তিতে নাম কাটা হয়েছে, তা জনগণের সামনে আনতে হবে। যদি ভুয়ো তথ্য দিয়ে নাম বাদ করানো হয়ে থাকে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হোক।’ উল্লেখ্য, গুজরাটে এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়লেও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান, ‘এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য সঠিক ও আপডেটেড ভোটার ডেটাবেস তৈরি করা।’ কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বলে মনে হচ্ছে, তাঁরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও (West Bengal) ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। ফলে গুজরাটের অভিজ্ঞতা অন্য রাজ্যগুলির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।’ রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, ‘ভোটার তালিকার নির্ভুলতা গণতন্ত্রের ভিত্তি। তবে সেই প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়, তা নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ গুজরাটে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এখন নজর থাকবে, কতজন সংশোধনের আবেদন করেন এবং নির্বাচন কমিশন কীভাবে অভিযোগের নিষ্পত্তি করে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : HS candidate Guskara : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনেই বধূকে ঘিরে টানাটানি! গুসকরায় প্রেম, বিয়ে ও পড়াশোনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক


