সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup) সুপার এইট পর্বে ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর যখন দিল্লির মাঠে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অভিনব পারিবারিক গল্প। দুই ভাই দুই দলের কোচিং শিবিরে, ফলে সমর্থনের প্রশ্নে ধন্দে তাঁদের মা। মর্কেল পরিবারের এই আবেগঘন দ্বন্দ্ব ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা পেসার অ্যালবি মর্কেল (Albie Morkel) বর্তমানে নিজের দেশের দলের পরামর্শদাতা কোচ। অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাই মর্নি মর্কেল (Morne Morkel) এখন ভারতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে। দুই ভাইয়ের ক্রিকেট-যাত্রা শুরু হয়েছিল একই দেশের জার্সিতে, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁরা এখন দুই ভিন্ন শিবিরে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইট ম্যাচে কাকে সমর্থন করবে মর্কেল পরিবার?

এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অ্যালবি। দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রুপ ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এখন এই ম্যাচ নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না। আসলে মা-ই বেশি চিন্তায়। মা বুঝতে পারছে না ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা- কাকে সমর্থন করবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে বেরিয়ে আসে, পরিবারে আবেগের টানাপোড়েন বাস্তব এবং গভীরতর। মর্কেল ভাইদের মা মারিয়ানা মর্কেলের জন্য পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে কঠিন। দুই ছেলেই আন্তর্জাতিক স্তরে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু এখন বড় ছেলে দেশের ডাগআউটে, ছোট ছেলে ভারতের সাপোর্ট স্টাফে। যদিও অ্যালবির কথাতেই ইঙ্গিত মিলেছে, ‘মা হয়তো নিজের দেশের দিকেই একটু বেশি ঝুঁকবে।’ অর্থাৎ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি আবেগ কিছুটা হলেও প্রবল।
২২ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ শুধু দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা-ই নয়, ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ। সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভারত ছাড়াও জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মুখোমুখি হতে হবে। অ্যালবি জানিয়েছেন, তাঁদের দল তিনটি ম্যাচের জন্যই প্রস্তুত। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দলে অনেক ক্রিকেটার আছে যারা ভারতে আইপিএল খেলেছে। এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে ওদের ধারণা আছে। চাপ সামলে ভাল খেলার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’ আইপিএলের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অ্যালবি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন চেন্নাই সুপার কিংস-এ (Chennai Super Kings) খেলার সময়ের কথা। সেখানে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং (Stephen Fleming) -এর কাজের ধরন। অ্যালবি বলেন, ‘ফ্লেমিংয়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কীভাবে দল পরিচালনা করতে হয়, ম্যাচ পরিস্থিতি বিচার করতে হয় সেই অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়ার আগে অ্যালবি নামিবিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজ করেছেন। নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘এই কাজ ভীষণ উপভোগ করছি। সারাক্ষণ প্রতিপক্ষের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করতে হয়। মাঠে থাকলে আমি কী করতাম, সেই চিন্তা থেকেই পরামর্শ দিই।’ কোচের ভূমিকায় থাকলেও নিজেকে এখনও ক্রিকেটার হিসেবেই ভাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে মর্নি মর্কেলের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার ছিল দীর্ঘ ও সফল। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে তিনি বড় ভাইয়ের তুলনায় এগিয়ে। কিন্তু এবারের ক্রিকেটীয় লড়াই সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে এবার দুই ভাইয়ের কৌশল, পরিকল্পনা ও কোচিং দক্ষতার পরীক্ষা। ভারতের বোলিং ইউনিটকে শক্তিশালী করে তুলতে মর্নির ভূমিকা ইতিমধ্যেই প্রশংসিত। ভারতীয় দলের পেস আক্রমণ সুপার এইটে কতটা কার্যকর হয়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে তাঁর পরিকল্পনার উপর।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে কৌশলগত লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুই দলই শক্তিশালী, অভিজ্ঞ এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে উজ্জীবিত। ভারতীয় দল ঘরের মাঠে খেলছে, যা বড় সুবিধা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দলে আইপিএল-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা কম নয়। ফলে ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়, একেবারে পারিবারিক আবেগের গল্প এবার ক্রিকেটের মঞ্চে। মা একদিকে দেশের প্রতি টান, অন্যদিকে দুই ছেলের সাফল্যের কামনা, এই দ্বৈত অনুভূতি বিশ্বকাপের উত্তেজনাকে আরও মানবিক করে তুলেছে। আসলে ক্রিকেট যে কেবল পরিসংখ্যানের খেলা না, তা আবারও প্রমাণ করল মর্কেল পরিবার। এখন প্রশ্ন একটাই, সুপার এইটের এই মহারণে শেষ হাসি কে হাসবে? ভারতের বোলিং কোচ মর্নি, না দক্ষিণ আফ্রিকার পরামর্শদাতা অ্যালবি? মাঠের ফল যা-ই হোক, ২২ ফেব্রুয়ারির ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India T20 World Cup performance-Hardik Pandya all round show : দিল্লীর ধীর পিচে জয়ের মধ্যেও অস্বস্তি, বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে ঝলসে উঠেও প্রশ্ন তুললেন হার্দিক, ফর্মহীন সঞ্জুর পাশে সূর্য


