domicile certificate application process in India | এসআইআর আতঙ্কে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের হুড়োহুড়ি, কীভাবে ও কোথায় আবেদন করবেন জানলে ভোগান্তি কমবে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (domicile certificate) বা আবাসিক শংসাপত্র নিয়ে চূড়ান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে মাসে গড়ে ১৪০টির বেশি ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়ে না, সেখানে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) -এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত দেড় মাসে আবেদন সংখ্যাটি বেড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আচমকা এই আবেদনের ঢেউ শুধু প্রশাসনের কাজের চাপই বাড়ায়নি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। অনেকেই জানেন না, কোন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বৈধ, কোথা থেকে সেটি নিতে হবে কিংবা কীভাবে আবেদন করলে দ্রুত পাওয়া যাবে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) নির্দেশিকা জারি করায় কিছুটা হলেও ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। নতুন দিল্লি (New Delhi) থেকে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer) -এর কাছে পাঠানো নির্দেশে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসক (District Magistrate), অতিরিক্ত জেলাশাসক (Additional District Magistrate), মহকুমা শাসক (Sub-Divisional Officer) এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর (Collector) কর্তৃক প্রদত্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেটই বৈধ বলে গণ্য হবে। অন্য কোনও সংস্থার দেওয়া শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কী, কেন প্রয়োজন, আর কীভাবে ও কোথায় আবেদন করলে তা পাওয়া যাবে?

আরও পড়ুন : Indian passport ranking, Henley Passport Index 2026 | ভারতীয় পাসপোর্টের শক্তি বাড়ল, ভিসা ছাড়াই ৫৫ দেশে ভ্রমণের সুযোগে সস্তা বিদেশ সফরের নতুন দরজা

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট মূলত একটি সরকারি নথি, যা কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা কি না, তা প্রমাণ করে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, শিক্ষা, সরকারি প্রকল্প বা ভোটার সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়ায় এই শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসআইআর প্রক্রিয়ার সূত্র ধরে সেই গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই বহু মানুষ আগেভাগেই এই নথি সংগ্রহে তৎপর হয়েছেন। এই শংসাপত্র পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে একটি ন্যূনতম সময় ধরে বসবাস করতে হয়। এই সময়সীমা রাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও ৩ বছর, কোথাও আবার ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হয় স্ব-ঘোষণাপত্র এবং স্থায়ী ঠিকানার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ। পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার কার্ড (Aadhaar Card), প্যান কার্ড (PAN Card), ভোটার আইডি (Voter ID), ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence) কিংবা পাসপোর্ট (Passport) -এর যে কোনও একটি নথি জমা দিতে হয়। পাশাপাশি জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate), স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট এবং দু’টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি বাধ্যতামূলক।

ঠিকানা প্রমাণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের পাসবই, বাড়িভাড়া সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ইন্টারনেটের বিলের মতো নথি জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করে। এবার প্রশ্ন, কোথায় আবেদন করবেন? আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি নির্ভর করে যে রাজ্যে আপনি বসবাস করছেন, তার নিয়মের উপর। সাধারণত ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন ফি ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) ও নতুন দিল্লি (New Delhi) -এর মতো কিছু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোনও ফি নেওয়া হয় না। আবেদন করা যায় অনলাইন ও অফলাইন, দু’ভাবেই।

অনলাইনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ই-ডিস্ট্রিক্ট (e-District) ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যায়। কিছু রাজ্যে, যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) বা উত্তরপ্রদেশে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই পরিষেবা পাওয়া যায়। অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে তহসিলদার অফিস (Tehsildar Office), রাজস্ব অফিস (Revenue Office), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস (District Magistrate Office), মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস (Sub-Divisional Magistrate Office), কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টর অফিস, নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র (Citizen Service Centre) কিংবা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশিকা ভাল করে পড়ে নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ এড়ানো যাবে, তেমনই ভুল নথির কারণে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee SIR case | সামান্য বানান ভুলে ভোটাধিকার খর্ব নয়! মমতার সওয়ালের পর এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Sasraya News
Author: Sasraya News