Emergency Quota train ticket India, confirm train ticket emergency quota | ট্রেনের Emergency Quota-তেই মিলতে পারে কনফার্ম টিকিট, জানুন আবেদন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি

SHARE:

বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি: ভারতীয় রেলে যাতায়াত মানেই প্রথম চিন্তা, কনফার্ম টিকিট পাওয়া যাবে তো? বিশেষ করে হঠাৎ কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তৎকাল টিকিটই ভরসা বলে মনে করেন বেশিরভাগ যাত্রী। কিন্তু বাস্তবে তৎকালই একমাত্র রাস্তা নয়। ভারতীয় রেলের বুকিং ব্যবস্থায় এমন একটি বিশেষ কোটা রয়েছে, যার নাম ইমার্জেন্সি কোটা (Emergency Quota)। এই কোটার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তেও কনফার্ম টিকিট পাওয়া সম্ভব, অথচ এই সুযোগ সম্পর্কে এখনও অনেক যাত্রীই ওয়াকিবহাল নন। রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways) -এর তথ্য অনুযায়ী, ইমার্জেন্সি কোটা রাখা হয়েছে একেবারে জরুরি ভিত্তিতে যাত্রার প্রয়োজন মেটানোর জন্য। এই কোটা মূলত এমন পরিস্থিতির জন্য, যেখানে যাত্রা এড়ানো সম্ভব নয় এবং সাধারণ বুকিং বা তৎকাল ব্যবস্থায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এটি কোনও বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনের সময় যাত্রীদের সহায়তা করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।

ছবি : প্রতীকী

 

কারা এই কোটায় টিকিট পেতে পারেন, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকের ধারণা, শুধু প্রভাবশালী বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই এই কোটার সুবিধা পান। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। রেল নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (Supreme Court Judge), কোনও রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতি (High Court Judge), সাংসদ (Member of Parliament) -এর মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইমার্জেন্সি কোটায় টিকিট বুক করতে পারেন। তবে এখানেই তালিকা শেষ নয়। সাধারণ যাত্রীরাও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই কোটার সুবিধা পেতে পারেন। যেমন পরিবারে কারও মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা, জরুরি চিকিৎসা, কিংবা চাকরির গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারভিউ বা পরীক্ষার জন্য যাত্রা প্রয়োজন হলে ইমার্জেন্সি কোটায় আবেদন করা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে ‘ইমার্জেন্সি’ কতটা গুরুতর, তা সম্পূর্ণভাবে রেল কর্তৃপক্ষের বিবেচনার উপর নির্ভর করে।

রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেউ ইমার্জেন্সি কোটায় আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফার্ম টিকিট মিলবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। আবেদন যাচাই করে, আসনের প্রাপ্যতা এবং জরুরিতার মাত্রা বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ, এটি কোনও অধিকার নয়, বরং বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া একটি সুবিধা। সম্প্রতি ভারতীয় রেল ইমার্জেন্সি কোটায় টিকিট দেওয়ার নিয়ম আরও কিছুটা কড়া করেছে। ভুয়ো আবেদন বা অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রার অন্তত একদিন আগে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। শেষ মুহূর্তে মৌখিক অনুরোধ বা অসম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে আর আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এতে প্রকৃত জরুরি যাত্রীদের জন্য সুবিধা আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

তাহলে কীভাবে করবেন আবেদন? ইমার্জেন্সি কোটায় টিকিট পেতে হলে একটি ফর্মাল আবেদনপত্র লিখতে হবে। সেই আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, কী কারণে জরুরি যাত্রা প্রয়োজন। আবেদনপত্র জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (Chief Commercial Manager) অথবা সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার (Senior Divisional Commercial Manager) -এর কাছে। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। যেমন, চিকিৎসাজনিত কারণে হলে ডাক্তারের সার্টিফিকেট, পরিবারের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট বা সংশ্লিষ্ট নথি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য হলে ইন্টারভিউ কল লেটার।

রেল আধিকারিকদের একাংশের মতে, আবেদন যত পরিষ্কার ও তথ্যভিত্তিক হবে, অনুমোদনের সম্ভাবনাও তত বেশি। অস্পষ্ট বা অতিরঞ্জিত আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অনুরোধ বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদন করার সময় সংক্ষিপ্ত কিন্তু যথাযথ কারণ উল্লেখ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইমার্জেন্সি কোটা অনলাইনে বুক করা যায় না। অর্থাৎ IRCTC (Indian Railway Catering and Tourism Corporation) -এর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে এই কোটার টিকিট কাটার সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়াটিই অফলাইন ও প্রশাসনিক অনুমোদনসাপেক্ষ। ফলে সময় হাতে নিয়ে আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইমার্জেন্সি কোটা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে বহু যাত্রীই শেষ মুহূর্তের দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে একই সঙ্গে মনে রাখা দরকার, এই ব্যবস্থা অপব্যবহারের জন্য নয়। প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতেই এই কোটার আবেদন করা উচিত। তাহলেই ভারতীয় রেলের এই বিশেষ সুবিধা তার আসল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Virat Kohli | সাজঘরে অনুষ্কাকে দেখে বিপাকে হর্ষিত, এক কথায় পরিস্থিতি বদলে দিলেন কোহলি

Sasraya News
Author: Sasraya News