শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুম মানেই চাপ, প্রস্তুতি আর কৌশলের আড্ডা। তবে তার মাঝেই হাসি-ঠাট্টার রসদ জোগাতে যিনি ওস্তাদ, তিনি বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। মাঠে তাঁর আগ্রাসী মানসিকতা যেমন পরিচিত, তেমনই মাঠের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে প্রাণখোলা মজার জন্যও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়। সম্প্রতি ভারতীয় জোরে বোলার হর্ষিত রানা (Harshit Rana) একটি সাক্ষাৎকারে এমনি একটি মজার ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হাসির রোল তুলেছে। আসলে, ঘটনাটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (Champions Trophy) ফাইনালের রাতের। সেই ঐতিহাসিক রাতে ভারত ট্রফি জিতে গোটা দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল। যদিও হর্ষিত রানা ওই প্রতিযোগিতায় একটি ম্যাচেও খেলেননি, তবু তিনি দলে ছিলেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হিসেবেই সেই উদ্যাপনের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন। ট্রফি জয়ের আনন্দে যখন গোটা ড্রেসিংরুম উচ্ছ্বাসে ভাসছে, তখনই ঘটে যায় এই মজার মুহূর্ত।
হর্ষিতের কথায়, ফাইনালের পরে সাজঘরে ঢুকেই তিনি দেখতে পান বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা (Anushka Sharma) সেখানে উপস্থিত। বিরাট কোহলির স্ত্রী হিসেবে অনুষ্কা দলের সঙ্গে সেই আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিতে এসেছিলেন। হর্ষিতের কাছে সেটাই ছিল অনুষ্কার সঙ্গে প্রথম সামনাসামনি দেখা। স্বাভাবিক ভদ্রতাবশত তিনি অনুষ্কাকে ম্যাম বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু এই একটিমাত্র শব্দই যে এমন হাস্যরসের জন্ম দেবে, তা তখন কল্পনাও করেননি তরুণ পেসার।হর্ষিত জানান, অনুষ্কাকে ম্যাম বলার সঙ্গে সঙ্গেই বিরাট কোহলি মজার ছলে তাঁকে থামিয়ে দেন। কোহলি নাকি হেসে বলেন, ‘এই, তুই ওকে ম্যাম বলছিস কেন? ভাবি বল।’ আচমকা এমন মন্তব্যে পুরো ড্রেসিংরুমে হেসে ওঠে সবাই। হর্ষিত নিজেও কিছুটা ঘাবড়ে যান। কারণ, সদ্য দলে সুযোগ পাওয়া এক তরুণ ক্রিকেটারের কাছে কোহলির এমন ঠাট্টা একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে তেমনই একটু অপ্রস্তুতিরও।
হর্ষিত আরও জানান, তিনি তখন আমতা-আমতা করে কোহলিকে বলেন যে প্রথমবার অনুষ্কার সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেই সম্মান দেখিয়ে ‘ম্যাম’ বলেছেন। কিন্তু তাতেও থামেননি কোহলি। উল্টে অনুষ্কাকে উদ্দেশ্য করে মজা করে বলেন, ‘আসলে হর্ষিত এমনই। একটু আগেই আমার মাথায় শ্যাম্পেন ঢেলে দিয়েছে। এখন তোমাকে ম্যাম বলছে।’ কোহলির এই মন্তব্যে অনুষ্কাও নাকি হেসে ফেলেন, আর মুহূর্তের মধ্যেই সেই পরিবেশ আরও হালকা হয়ে ওঠে।এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে হর্ষিত রানা স্পষ্টই বলেন, বিরাট কোহলি শুধু একজন বড় মাপের ক্রিকেটার নন, তিনি একজন দারুণ মানুষও। দলের পরিবেশ চাঙা রাখতে তিনি সব সময় চেষ্টা করেন, যাতে তরুণ ক্রিকেটারেরা নিজেদের সহজভাবে মেলে ধরতে পারে। সাক্ষাৎকারের সঞ্চালক যখন হর্ষিতকে প্রশ্ন করেন, কোহলি কি সব সময়ই এমন মজার মানুষ, তখন হর্ষিত একবাক্যে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, মজা করতে প্রচণ্ড ভালবাসে কোহলি।’
ভারতীয় ক্রিকেট দলে বিরাট কোহলির প্রভাব শুধুমাত্র রান বা নেতৃত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ড্রেসিংরুমে তাঁর উপস্থিতি তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। অনেকেই আগেও বলেছেন, কোহলি নতুনদের সঙ্গে সিনিয়র-জুনিয়রের ভেদাভেদ করেন না। প্রয়োজন হলে পরামর্শ দেন, আবার সুযোগ পেলেই মজার ছলে চাপ হালকা করে দেন। হর্ষিতের এই অভিজ্ঞতা সেই কথাকেই আরও একবার প্রমাণ করল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের রাতে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যে আবহ তৈরি হয়েছিল, তা পারস্পরিক বন্ধন, হাসি আর স্মরণীয় মুহূর্তের মেলবন্ধন। অনুষ্কা শর্মার উপস্থিতিতে সেই রাত আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিল। আর বিরাট কোহলির এক লাইনের ঠাট্টা যে এত দিন পরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তা হয়ত কেউই ভাবেননি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতে, এই ধরনের ছোট ছোট মুহূর্তই একটি দলের ভিত গড়ে তোলে। চাপের ম্যাচ, বড় মঞ্চ সব কিছুর মাঝেই যদি এমন প্রাণখোলা পরিবেশ থাকে, তবে দলের সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়। বিরাট কোহলি যে এই দিকটায় কতটা সচেতন, হর্ষিত রানার কথাতেই তা স্পষ্ট। কিন্তু, মাঠের বাইরে কোহলির এই রসিকতা আবারও প্রমাণ করল, কেন তিনি সতীর্থদের কাছে শুধু একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার নন, বরং একজন প্রিয় মানুষও।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli rejected Puma offer | পুমার ৩০০ কোটি টাকার অফার ফিরিয়ে দিয়ে ‘নতুন খেলায়’ নামলেন বিরাট কোহলি




