U19 World Cup, India U19 Champion | বিশ্বকাপের অপ্রতিরোধ্য ভারত, বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ইতিহাস গড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত

SHARE:

সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, হারারে : আসল মুহূর্তে যাঁরা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারেন, ক্রীড়াজগতে তাঁরাই হয়ে ওঠেন বড় মাপের খেলোয়াড়। বড় মঞ্চে চাপের সামনে দাঁড়িয়ে যাঁরা ভয় নয়, আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেন, তাঁদের পারফরম্যান্স স্মৃতিতে থেকে যায় বহুদিন। শুক্রবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ঠিক তেমনই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত রচনা করলেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryabanshi)। তাঁর ব্যাটে ভর করেই ইংল্যান্ডকে (England) হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারত (India U-19)।

 

ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত তুলেছিল পাহাড়সম ৪১১ রান ৯ উইকেটের বিনিময়ে। জবাবে চাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ৩১১ রানে। শেষ দিকে সেলেব ফ্যালকনার (Caleb Falckner) আপ্রাণ লড়াই চালালেও শতরান করেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। ফলে ১০০ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ষষ্ঠবারের জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি উঠল ভারতের হাতে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট আরও একবার প্রমাণ করল, বিশ্বমঞ্চে বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয় দক্ষতা, প্রস্তুতি আর মানসিক দৃঢ়তাই আসল চাবিকাঠি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত তিন বছরে ভারত জিতেছে মোট পাঁচটি আইসিসি বিশ্বকাপ। এর মধ্যে রয়েছে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দু’টি বিশ্বকাপ, মেয়েদের এক দিনের বিশ্বকাপ, ২০২৪ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এবারের ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ভারতের আধিপত্য নতুন কিছু নয়। টানা ছ’বার ফাইনালে ওঠা এবং তার মধ্যে অধিকাংশবার ট্রফি জেতা নিঃসন্দেহে অন্য দলগুলির কাছে ঈর্ষণীয় নজির। যদিও এক সময় এই দলকে ঘিরে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ধারাবাহিকতায় ঘাটতি, ম্যাচ জয়ের অভাব- প্রশ্ন উঠেছিল প্রস্তুতি নিয়েও। পরে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI) বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখে, আইসিসি টুর্নামেন্ট ছাড়া এই দল নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। সেখান থেকেই বদলের সূচনা।

আরও পড়ুন : T20I most matches record, Rohit Sharma Record Broken | রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভাঙল! আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক পল স্টার্লিং ভাঙলেন রোহিতের রেকর্ড

এর পর থেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের দিকে নজর দেয় বোর্ড। এশিয়া কাপের আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ খেলে দল। তার ফলও মেলে হাতেনাতে, এশিয়া কাপ জয়। বিশ্বকাপের ঠিক আগে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে আরও ঝালিয়ে নেয় নিজেদের। এই ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার সুযোগই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলে, যার প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায় বিশ্বকাপজুড়ে। তবে ফাইনালের আলো পুরোপুরি কেড়ে নিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। বড় ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ, বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু হারারেতে (Harare) বৈভবের ব্যাটিং দেখে এক মুহূর্তের জন্যও তা মনে হয়নি। যেন ‘চাপ’ শব্দটির সঙ্গেই তাঁর পরিচয় নেই। প্রতিপক্ষ বোলার যেই হোন না কেন, বৈভব ছন্দে থাকলে বিপক্ষ শিবিরে অস্বস্তি অবধারিত—ফাইনালে ইংল্যান্ড তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।

মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন বৈভব। ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্নের মতো, কিন্তু বৈভব সেটাকে বাস্তবে রূপ দিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি ধারাবাহিক ছিলেন, আমেরিকার ম্যাচ বাদে প্রায় সব ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। তিনটি অর্ধশতরান থাকলেও ফাইনালের ইনিংস সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas daughter | ‘মাত্র ৭৬৬ গ্রাম ওজন, সারা শরীর বেগনি’: প্রিম্যাচিয়োর জন্ম থেকে হাসপাতালের ১০০ দিন, মালতী মেরির জন্য কীভাবে নাজেহাল হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক

মজার বিষয়, ইনিংসের শুরুতে প্রথম তিন বলে কোনও রানই নেননি বৈভব। চতুর্থ বলে অ্যালেক্স গ্রিনকে (Alex Green) চার মেরে খাতা খোলেন। নবম ওভারে গ্রিনের বিরুদ্ধে ১৮ রান তুলে ম্যাচের গতি নিজের হাতে নিয়ে নেন। ৩২ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ফারহান আহমেদকে (Farhan Ahmed) এক ওভারে তিনটি ছয় ও একটি চার মেরে ২২ রান তোলেন। পরের ৫০ রান আসে মাত্র ২২ বলে। ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করে ইতিহাস গড়েন বৈভব। এর পরও থামেননি। রালফি আলবার্টকে (Ralphie Albert) এক ওভারে দু’টি ছয় ও তিনটি চার মেরে ২৭ রান তোলেন। গ্রিন, ফারহান, আলবার্ট, সেবাস্তিয়ান মর্গ্যান (Sebastian Morgan), ইংল্যান্ডের কোনও বোলারই তাঁকে থামাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যানি লামসডেনের (Manny Lamsden) বলে আউট হলেও তখন তাঁর সামনে নিশ্চিত দ্বিশতরান ছিল। তবু আউট হওয়ার পর আক্ষেপ নয়, বরং আত্মতৃপ্তিই ধরা পড়ে তাঁর মুখে। গোটা মাঠ উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় এই তরুণ তারকাকে।

ভারতের ইনিংসে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre) ৫৩ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu) করেন ঝকঝকে ৪০ রান। শেষ পর্যন্ত চারশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারত। জবাবে ইংল্যান্ড শুরুটা ধীরগতিতে করলেও মাঝপথে বেন ডকিন্স (Ben Dawkins) ও বেন মায়েস (Ben Mayes) লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীপেশ দেবেন্দ্রন (Deepesh Devendran) ও আর এস অম্বরীশের (R S Ambarish) আক্রমণে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষদিকে সেলেব ফ্যালকনারের শতরান কেবল ব্যবধান কমিয়েছে, ফল বদলাতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই জয়ের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হল। বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হাতেই রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana RCB Champion | মন্ধানার ব্যাটে দিল্লির স্বপ্নভঙ্গ, মেয়েদের আইপিএলে আবার চ্যাম্পিয়ন আরসিবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন