সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পূর্ব কলকাতার শহরতলি আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ দেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PM National Relief Fund) থেকে মৃতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যম বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা সামনে আসার পরেই কেন্দ্রীয় ত্রাণ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রসঙ্গত, আনন্দপুর এলাকার একটি জনবহুল আবাসিক অঞ্চলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। দমকল বাহিনী (Fire Brigade) এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং একাধিক ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকেও তৎপরতা শুরু হয়। দমকল বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, ‘আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে।’ আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ এবং ক্ষতিপূরণ ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনায় কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়।’ যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিনের। তাঁদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো যেত। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিকেজ না অন্য কোনও কারণ, সমস্তই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোকবার্তায় আবারও উঠে এসেছে কেন্দ্রের তরফে দুর্যোগকালীন সহায়তার বিষয়টি। আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। এই তহবিল মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় দুর্ঘটনা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, আনন্দপুরের এই দুর্ঘটনা ফের শহরের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা ও তার আশপাশের বহু এলাকায় পুরনো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয় না। নিয়মিত অগ্নি-নিরাপত্তা মহড়া, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মত তাঁদের। নচেৎ ভবিষ্যতেও এই ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে।
এদিকে, নিহতদের পরিবারগুলির কাছে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ক্ষতিপূরণ যে একমাত্র সম্বল হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য। এক মৃতের আত্মীয়ের কথায়, ‘কোনও টাকাই প্রিয়জনের অভাব পূরণ করতে পারে না। তবে এই আর্থিক সাহায্য আমাদের জন্য অন্তত কিছুটা সহায়তা হবে।’ আহতদের পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত সুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মত, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড মহানগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোকপ্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা যেমন মানবিক সহানুভূতির বার্তা বহন করছে, তেমনই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই স্তরেই আরও সচেতন ও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরাল হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Chhattisgarh road network, rural road development | ২৫ বছরে সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক উন্নতি ছত্তিশগড়ে: ৪৮ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা থেকে অর্থনৈতিক করিডর, উন্নয়নের নতুন মানচিত্র



