সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু : সম্বন্ধ করে বিয়ের মাত্র দু’মাসের মাথায় স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মানসিক বিপর্যয়ে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উদ্ধার হল ঘটকেরও ঝুলন্ত দেহ। একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় শোরগোল পড়েছে কর্নাটকের (Karnataka) ওই এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শুরু হয়েছে বিস্তৃত তদন্ত। পুলিশ সূত্রে উল্লেখ, সরস্বতী (Saraswati) ও হরিশের (Harish) বিয়ে হয়েছিল পরিবারের পছন্দে। আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে, সামাজিক রীতিনীতি মেনেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কেউই ভাবতে পারেননি, এই সম্পর্ক এত দ্রুত এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোবে। বিয়ের পর প্রথম দিকে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, মাত্র দু’মাসের মাথায় আচমকাই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান সরস্বতী।
পরিবারের তরফে পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে জানা যায়, সরস্বতী তাঁর পুরনো প্রেমিক শিবকুমারের (Shivakumar) সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হরিশ ও তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশীদের দাবি, স্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি হরিশ। তিনি নিজেকে ক্রমশ গুটিয়ে নিতে শুরু করেন, কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। বৃহস্পতিবার সকালে হরিশের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। ওই চিঠিতে নিজের মৃত্যুর জন্য কয়েকজনকে দায়ী করেছেন হরিশ। যদিও পুলিশ এখনও সেই চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তদন্তকারী আধিকারিকের কথায়, ‘সুইসাইড নোটটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।’
হরিশের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু এই ঘটনার মধ্যেই আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে। সরস্বতীর কাকা রুদ্রেশের (Rudresh) দেহও উদ্ধার হয় তাঁর বাড়ি থেকে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, তিনিও আত্মঘাতী হয়েছেন। এই দুই মৃত্যুর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। তদন্তে উঠে এসেছে, হরিশ ও সরস্বতীর বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন রুদ্রেশ। তিনিই এই বিয়ের ঘটকালি করেছিলেন। আত্মীয়দের দাবি, সরস্বতীর জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিজে কাঁধে নিয়েছিলেন রুদ্রেশ। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দুই পরিবারের মধ্যে কথা বলেছিলেন এবং বিয়ের সমস্ত বন্দোবস্ত তদারকি করেছিলেন। তাই সরস্বতীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানসিক ধাক্কা তিনিই খান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে পালানোর পর থেকেই রুদ্রেশ মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি নাকি বলেছিলেন, নিজের সম্মান ও বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি বাড়ির বাইরে বেরোনো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কারও সঙ্গে কথা বলতেন না, কারও ফোনও ধরতেন না। বৃহস্পতিবার যখন রুদ্রেশ জানতে পারেন, হরিশ আত্মঘাতী হয়েছেন, তখন তাঁর মানসিক অবস্থা আরও ভেঙে পড়ে। দুপুরের দিকে তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে লোকলজ্জা ও মানসিক চাপ থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অনুমান। যদিও মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সরস্বতীর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিয়ের আগেই শিবকুমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সরস্বতীর। হরিশ সেই সম্পর্কের কথা জানতেন বলেই দাবি উঠেছে। তবুও পরিবারের চাপে বা পরিস্থিতির কারণে তিনি এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন। রুদ্রেশও সেই বিয়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরস্বতী পুরনো প্রেমিকের সঙ্গেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য যে, পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৩ জানুয়ারি মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সরস্বতী। তার পর আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেননি। পরে জানা যায়, তিনি শিবকুমারের সঙ্গে পালিয়েছেন। এই ঘটনায় সরস্বতীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে তাঁর প্রেমিক শিবকুমার এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।অন্যদিকে, হরিশের পরিবারের তরফে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি রুদ্রেশের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, দুটি আত্মহত্যার মধ্যে মানসিক যোগসূত্র স্পষ্ট হলেও আইনি ভাবে সব দিক খতিয়ে দেখা জরুরি। উল্লেখ্য যে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফের একবার সামাজিক চাপ, পারিবারিক সম্মান এবং সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সময়মতো মানসিক সহায়তা ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকলে হয়তো এমন পরিণতি এড়ানো যেত। এখন পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই পরিবার এবং গোটা এলাকা।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nurse kills parents for love marriage, Telangana nurse murder case | প্রেমের বিয়েতে বাধা, ভয়ংকর প্রতিশোধ! বাবা-মাকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার নার্স, স্তব্ধ তেলেঙ্গানা



