Thailand train accident, crane falls on train | চলন্ত ট্রেনের উপর ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতুর ক্রেন, থাইল্যান্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ব্যাংকক : থাইল্যান্ডে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। রাজধানী ব্যাংকক (Bangkok) থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে যাত্রাপথে থাকা একটি যাত্রীবাহী চলন্ত ট্রেনের উপর আচমকাই ভেঙে পড়ে সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত বিশাল ক্রেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন। আহতের সংখ্যা ৩০ জনেরও বেশি। দুর্ঘটনার জেরে ট্রেনের একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়। এখনও চলছে উদ্ধার কাজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ থাইল্যান্ডের নাখন রাতচাসিমা (Nakhon Ratchasima) প্রদেশের সিখিও (Sikhio) জেলার বান থানন খোট (Ban Thanon Khot) এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই এলাকায় তখন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের কাজ চলছিল। উবন রাতচাথানিগামী (Ubon Ratchathani) যাত্রীবাহী ট্রেনটি যখন পাশের রেললাইন দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেনটি আচমকাই ভেঙে পড়ে ট্রেনের উপর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের আওতায় একটি রেল সেতু নির্মাণের কাজ চলছিল। নির্মাণসামগ্রী সরানোর জন্য যে বিশাল ক্রেনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটি ভারসাম্য হারিয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ক্রেনটি সরাসরি ট্রেনের কামরার উপর পড়ায় একের পর এক বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। প্রচণ্ড ধাক্কায় কয়েকটি কামরায় আগুন ধরে যায়। যদিও দ্রুত দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন : Paetongtarn Shinawatra Suspension | ফোন কল ফাঁসের জেরে সাসপেন্ড হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, স্থায়ী অপসারণের শঙ্কা

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল। প্রথমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা। জানা গিয়েছে, ওই ট্রেনে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। লাইনচ্যুত বগিগুলির ভেতরে বহু যাত্রী আটকে পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল ধীরে ধীরে বগি কেটে ও ভেঙে যাত্রীদের বাইরে বের করে আনছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। থাইল্যান্ড সরকারের তরফে এক্স (X)-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, ‘আজ ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টা ০৫ মিনিটে নাখন রাতচাসিমার সিখিও এলাকায় একটি উচ্চগতির রেল সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেন চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের উপর পড়ে যায়। এর ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং আগুন ধরে যায়। ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। অনেকেই বগির ভেতরে আটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে একাধিক উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।’

প্রথম দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মৃতের সংখ্যা ১২ বলে জানানো হলেও পরে নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিনাওয়ং (Thatchapon Chinawong) নিশ্চিত করেন যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছি। আহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এই দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের পরিবহণ ও রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির রেল প্রকল্পগুলিতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই সেতু নির্মাণের কাজ চলছিল এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত ক্রেনটি সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

আরও পড়ুন : Poush Parbon, Himanta Biswa Sarma | পৌষ পার্বণে সম্প্রীতির বার্তা, পিঠে-পুলির উৎসবে ঐতিহ্যকে স্মরণ করালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

থাইল্যান্ডের পরিবহণমন্ত্রী (Transport Minister of Thailand) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এই দুর্ঘটনার দায় কার, তা খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নির্মাণ সংস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রেল কর্তৃপক্ষ সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।’ তাঁর কথায়, গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার জেরে সাময়িক ভাবে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই রেল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করলে এই ধরনের দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে। চলন্ত ট্রেনের পাশেই ভারী নির্মাণকাজ চালানোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম ও নজরদারির প্রয়োজন ছিল বলে মত তাঁদের। উল্লেখ্য, চলন্ত ট্রেনের উপর ক্রেন ভেঙে পড়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা থাইল্যান্ডে রেল নিরাপত্তা ও নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে প্রশাসনকে। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির চোখে এখন একটাই প্রশ্ন, এই দুর্ঘটনা কি এড়ানো যেত না?

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shraddha Kapoor producer role, Women empowerment Bollywood | পাহাড়পাঙ্গিরায় সতীদাহ প্রথার প্রেক্ষাপটে শ্রদ্ধা কাপুর অভিনয় নয়, প্রযোজনাতেও নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন বলিউড অভিনেত্রী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন