সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পুণ্যের টানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম, এই চিরাচরিত ছবিকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে কলকাতার বাবুঘাটে গড়ে উঠছে ট্রানজিট পয়েন্ট ও অস্থায়ী শিবির। সাধু-সন্ত, পুণ্যার্থী ও সেবাকর্মীদের উপস্থিতিতে বাবুঘাটের এই অস্থায়ী শিবির কার্যত ‘মিনি গঙ্গাসাগর মেলা’ রূপ নেয়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর নির্দেশে গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন, কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) এবং পূর্ত দফতর (PWD)। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গঙ্গাসাগরগামী পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাবুঘাটের এই ট্রানজিট পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাগরমুখী যাত্রীদের বড় অংশই বাবুঘাট হয়ে কাকদ্বীপ বা নামখানার পথে রওনা দেন। সেই কারণেই এখানে অস্থায়ী শিবিরের ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
চলতি বছরে বাবুঘাটের অস্থায়ী শিবিরের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ (Atin Ghosh), মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার (Debashis Kumar) ও অসীম বসুকে (Asim Basu)। প্রশাসনিক মহলের দাবি, অভিজ্ঞ এই নেতৃত্বের হাত ধরে বাবুঘাটের ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত ও মসৃণ হবে। এই সপ্তাহ থেকেই গঙ্গাসাগরের উদ্দেশ্যে পুণ্যার্থীদের যাত্রা শুরু হবে, যা চলবে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। মূল মেলার সময় রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তা সরাসরি গঙ্গাসাগরে গিয়ে পরিস্থিতি তদারকি করবেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) -সহ একঝাঁক মন্ত্রীকে মেলা চলাকালীন সাগরে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে উল্লেখ।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার দায়িত্ব সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে ডেপুটি মেয়রকে সামনে রেখে বাবুঘাট ট্রানজিট পয়েন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার বাবুঘাটে অস্থায়ী শিবিরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ সংশ্লিষ্ট মেয়র পরিষদ ও ডেপুটি মেয়রকে জানানো হয়। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এ বার ব্যবস্থাপনায় সামান্য গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না।
পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরে বাবুঘাটের অস্থায়ী শিবিরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ করে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধু–সন্তদের ধুনি বা আগুন জ্বালানোর স্থানগুলিতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। ওই সব এলাকায় সিসি ক্যামেরার সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রশাসনের দাবি, সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শিবির পরিষ্কার রাখতে এবার অতিরিক্ত কর্মী নামানো হচ্ছে। পানীয় জল সরবরাহ, জঞ্জাল সাফাই এবং শৌচালয় পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে কলকাতা পুরসভার হাতে। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রতিবছর যেখানে তিন শিফটে প্রায় ১২০ জন সাফাইকর্মী কাজ করেন, সেখানে এ বার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩০ জন করা হয়েছে। জঞ্জাল অপসারণের জন্যও বাড়তি গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে বাবুঘাট এলাকায় কোনওভাবেই আবর্জনার স্তূপ জমে না ওঠে।
প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘গঙ্গাসাগর মেলা বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অঙ্গ। সেই কারণে বাবুঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিষেবা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’ তাঁর দাবি, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্রামের জায়গা, আলোর ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের একাংশের মতে, বাবুঘাটের অস্থায়ী শিবির তাঁদের যাত্রাপথের ক্লান্তি অনেকটাই কমায়। দীর্ঘ পথচলার আগে এখানে বিশ্রাম নেওয়া, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়া তাঁদের কাছে বড় স্বস্তির। তবে ভিড় বাড়লে সমস্যা দেখা দেয়, এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশাসন এ বার আগাম প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না।
তবে, গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে বাবুঘাটে যে ‘মিনি গঙ্গাসাগর মেলা’ বসে, তা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা এবং শহরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখাই এ বারের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, প্রশাসনের এই বাড়তি উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সুফল দিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত




