Amit Shah’s ‘Dil Pe Likh Lo’ Call Signals BJP’s Bengal Power Push | বাংলায় ক্ষমতা দখলের ডাক অমিত শাহের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: লোকসভা ভোটের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন আরও মজবুত করার রণকৌশলে নেমেছে বিজেপি। সেই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে অনুপ্রবেশ ইস্যু, নিরাপত্তা এবং জনসংযোগ। বুধবার সল্টলেকে দলের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি জানিয়ে দিলেন, এবার আর ‘প্রচেষ্টা’ নয়, লক্ষ্য একটাই, জিততেই হবে। বৈঠকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি যদি একটা সময় পশ্চিমবঙ্গে তিনটি আসন থেকে ধাপে ধাপে ৭৭টি আসনে পৌঁছতে পারে, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে পৌঁছনো অসম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘আমরা যদি তিন থেকে সাতাত্তর পর্যন্ত পৌঁছতে পারি, তাহলে সাতাত্তর থেকে কেন ২০০ পৌঁছতে পারব না?’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য সরাসরি ক্ষমতা দখল। শাহের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতা আর নিরাপদ নেই। সীমান্তবর্তী এলাকা তো বটেই, শহরের বুকেও অনুপ্রবেশের প্রভাব পড়ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশঙ্কা, এই প্রবণতা আরও বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারকে ‘সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে’- এমনই কড়া ভাষায় তিনি বার্তা দেন।

অমিত শাহের বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি ছিল সাংগঠনিক দাওয়াই। তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র মঞ্চের বক্তৃতা বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার যথেষ্ট নয়। মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে ঘরে ঘরে। তাই জনসংযোগ বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেন শাহ। তিনি বলেন, ‘এক কর্মীর সঙ্গে অন্য কর্মীর যোগাযোগ বাড়ান। সবাইকে জাগ্রত করুন। কলকাতার চারটি জেলার প্রত্যেক কর্মীকে মাঠে নামতে হবে। গৃহ-সম্পর্ক তৈরি করুন।’ অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের সমস্যা শোনা এবং বিশ্বাস অর্জন করাই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের মনে পড়ছে অমিত শাহের আগের বাংলা সফরের কথা। তখন তাঁকে প্রান্তিক মানুষের বাড়ির উঠোনে বসে মধ্যাহ্নভোজন করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি ও বার্তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে ‘গ্রাসরুট’ রাজনীতিকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তা স্পষ্ট করেছিল। এ দিনের বৈঠকেও সেই একই দর্শন সামনে আনেন শাহ। তাঁর মতে, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা না শুনলে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি না হলে ভোটের বৈতরণী পার করা যাবে না।

বৈঠকে অমিত শাহ বর্তমান রাজ্য সরকারের স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’ নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই স্লোগানের বাস্তব রূপ আজ প্রশ্নের মুখে। শাহ বলেন, ‘এই সরকার এসেছিল মা-মাটি-মানুষের নাম করে। আজ মা বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপট।’ তাঁর অভিযোগ, সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার ব্যর্থ। আর সেই ব্যর্থতার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপির অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকের মাধ্যমে অমিত শাহ কার্যত নির্বাচনী প্রস্তুতির রূপরেখা বেঁধে দিয়েছেন। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে সক্রিয়তা বাড়ানো, বুথ স্তরে শক্তি বৃদ্ধি, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটারদের কাছে পৌঁছনো, সব কিছুই আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে শহর কলকাতা এবং তার আশপাশের জেলাগুলিকে পাখির চোখ করতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি যে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে, তা এখন আর গোপন নয়। অমিত শাহের বক্তব্যে সেই কৌশল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বস্তুত, সল্টলকের এই বৈঠক বিজেপির কাছে শুধু একটি সাংগঠনিক সভা নয়, বরং ২০২৬-এর যুদ্ধঘোষণা। অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা ও জনসংযোগ, এই তিন অস্ত্রকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে কতটা সফল হয় বিজেপি, সেটাই এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amit Shah Kolkata, West Bengal infiltration issue | কলকাতায় অমিত শাহের কড়া বার্তা: অনুপ্রবেশই বাংলায় বিজেপির প্রধান ভোট-অস্ত্র, সঙ্গে দুর্নীতি-অপশাসনের অভিযোগে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ

Sasraya News
Author: Sasraya News