Amit Shah Kolkata, West Bengal infiltration issue | কলকাতায় অমিত শাহের কড়া বার্তা: অনুপ্রবেশই বাংলায় বিজেপির প্রধান ভোট-অস্ত্র, সঙ্গে দুর্নীতি-অপশাসনের অভিযোগে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা সফরে এসে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির (Bharatiya Janata Party) প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হতে চলেছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। তার সঙ্গে সমান গুরুত্ব পাবে দুর্নীতি, অপশাসন, সন্ত্রাস ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন। মঙ্গলবার দুপুরে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একের পর এক তীব্র আক্রমণে বিদ্ধ করেন শাহ।

 

দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হওয়া এই সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহের পাশে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) এবং মতুয়া সমাজের অন্যতম মুখ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)। শুরুতেই ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, ‘আজকের দিনেই ১৯৪৩ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) পোর্ট ব্লেয়ারে প্রথম স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।’ এর পরই রাজ্য রাজনীতির প্রসঙ্গে ঢুকে অমিত শাহ বলেন, আগামী এপ্রিলেই নির্বাচন। তাঁর দাবি, ভয়, দুর্নীতি ও কুশাসনের পরিবেশে বাংলার মানুষ আজ উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘এমন শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় গ্রিড তৈরি করব, যাতে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ তো দূরের কথা, পাখিও ঢুকতে পারবে না।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ প্রশ্নে বিজেপি কোনও আপস করতে রাজি নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকারকে দুর্নীতির প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রোজভ্যালি চিটফান্ড, ক্যাশ ফর কোয়ারি, এসএসসি নিয়োগ, পুরনিয়োগ, গরুপাচার, রেশন, ১০০ দিনের কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, ‘এত দুর্নীতির তালিকা যে পুরোটা বলতে গেলে আমার সাংবাদিক বৈঠকই শেষ হয়ে যাবে।’ তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির কারণেই বাংলার উন্নয়ন কার্যত থমকে গিয়েছে। দুর্নীতির প্রসঙ্গেই শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনার মন্ত্রীর ঠিকানা থেকে ২৭ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। নোট গোনার মেশিন গরম হয়ে যায়। বাংলার মতো গরিব রাজ্য থেকে ২৭ কোটি, ২০ কোটি, ১৫ কোটি টাকা বেরচ্ছে, এর কোনও দায় কি মুখ্যমন্ত্রীর নেই?’ তিনি একাধিক তৃণমূল নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick), অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal), জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jiban Krishna Saha), মানিক ভট্টাচার্য (Manik Bhattacharya), কুন্তল ঘোষদের (Kuntal Ghosh) জেলে যেতে হয়েছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, দুর্নীতি নেই, এমন কথায় বিশ্বাস করে না বাংলার মানুষ।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অপশাসনের অভিযোগ তুলতে গিয়ে শাহ বলেন, উন্নয়ন আজ সিন্ডিকেটের কবলে। বিজেপি সরকার গঠন হলে ‘বঙ্গ গৌরব’ এবং ‘বঙ্গ সংস্কৃতি’র পুনর্জাগরণ ঘটানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chattopadhyay), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mukherjee) -এর স্বপ্নের বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। ভোটের অঙ্ক টেনে অমিত শাহ বলেন, বিজেপির উত্থান ধাপে ধাপে হয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট থেকে ২০১৯ সালে ৪১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৭টি আসন, এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালে বিজেপি বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়বে। নরেন্দ্র মোদীএ (Narendra Modi) নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিজেপি ও এনডিএ-এর (NDA) জয়ের ধারাবাহিকতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে সরাসরি অভিযুক্ত করে শাহ বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দিতে অস্বীকার করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাঁর প্রশ্ন, ‘অসম, ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ কী ভাবে বন্ধ হল? এখানে কেন হচ্ছে?’ তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্রয়েই অনুপ্রবেশকারীরা আশ্রয় পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বিপদ। নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন শাহ। সন্ধ্যার পরে মহিলাদের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শকে তিনি ‘মোগল যুগের মানসিকতা’ বলে কটাক্ষ করেন। আরজি কর হাসপাতাল, সন্দেশখালি ও দুর্গাপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যে মহিলারা আদৌ সুরক্ষিত নন।কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর না করার অভিযোগও তোলেন শাহ। পিএম কিসান ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়েই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা দিচ্ছে। শিল্পের অভাব প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘কামানোর অধিকার এখানে একমাত্র ভাইপোর।’

মতুয়া সমাজের উদ্দেশ্যে অভয়বার্তা দিয়ে অমিত শাহ বলেন, যাঁরা শরণার্থী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁরা ভারতের নাগরিক। বিজেপির প্রতিশ্রুতি, তাঁদের কোনও ক্ষতি হবে না। সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্বে প্রশ্নোত্তর চলাকালীন কিছুটা উত্তেজনাও দেখা যায়। শেষ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে শাহ বলেন, ‘প্রশ্ন সাজানো হচ্ছে’, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই বৈঠকের তিনি ইতি টানেন। উল্লেখ্য, কলকাতায় অমিত শাহের সাংবাদিক বৈঠক স্পষ্ট করে দিল, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের কেন্দ্রে থাকছে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, অপশাসন ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখন দেখার, এই আক্রমণের পাল্টা কী ভাবে জবাব দেয় শাসক শিবির।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Begum Khaleda Zia death, Narendra Modi condolence message | খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 

Sasraya News
Author: Sasraya News