সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নতুন বছরের শুরুটা মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। সারা দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের পকেটে সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে মোবাইল রিচার্জ (Mobile recharge) প্ল্যানের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি। ২০২৬ সালের গোড়াতেই ফের এক দফা ট্যারিফ বাড়াতে পারে দেশের প্রধান বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি। দীর্ঘ দিন ধরেই এই জল্পনা চলছিল, এবার সেই জল্পনার সঙ্গে যুক্ত হল সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বাজার সূত্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স জিয়ো (Reliance Jio), ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vodafone Idea) -এর মতো টেলিকম সংস্থাগুলি তাদের প্রিপেইড ও পোস্টপেইড প্ল্যানের দাম ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু নির্বাচিত প্ল্যানের ক্ষেত্রে ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে বলে খবর। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই এই বাড়তি খরচের বোঝা পড়তে পারে গ্রাহকদের উপর বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন : Ishan Kishan comeback | ভগবদ্গীতার কোন শ্লোক থেকে এক বছরের লড়াইয়ে বদলে গেল ঈশান কিশানের ভাগ্য?
অর্থনৈতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ৫জি ব্যবহারকারীদের উপর। কারণ, বর্তমানে যেসব আনলিমিটেড ৫জি বা হাই-ডেটা প্ল্যান তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দামে মিলছে, সেগুলিই হতে পারে ট্যারিফ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য। ফলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মাসে আরও বেশি টাকা গুনতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে, মরগান স্ট্যানলি (Morgan Stanley)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি গড় ব্যবহারকারী আয় বা এআরপিইউ (ARPU) বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ট্যারিফ বৃদ্ধি করতে পারে। শেষবার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ প্রায় দুই বছর পর ফের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে টেলিকম শিল্প। সংস্থাগুলির দাবি, নেটওয়ার্ক আপগ্রেড, ৫জি পরিষেবা বিস্তার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির অঙ্ক সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই হিসেব কষতে শুরু করেছেন, আগামী দিনে তাঁদের মাসিক খরচ কতটা বাড়তে পারে। যদি ২০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তা হলে এয়ারটেল (Airtel)-এর ২৮ দিনের আনলিমিটেড ৫জি প্ল্যান তা বেড়ে হতে পারে প্রায় ৪১৯ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ। একইভাবে রিলায়েন্স জিয়ো (Jio)-র জনপ্রিয় ২৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যান, যেখানে দৈনিক ১.৫ জিবি ডেটা পাওয়া যায়, সেটির দাম বেড়ে হতে পারে আনুমানিক ৩৫৯ টাকা। আবার ৩৪৯ টাকার ২৮ দিনের ৫জি প্ল্যানের দাম ৪২৯ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। সব মিলিয়ে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, একজন সাধারণ ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হতে পারে।ভোডাফোন আইডিয়া (Vodafone Idea বা VI) -এর গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত নেই। সংস্থার ২৮ দিনের মেয়াদের ১ জিবি দৈনিক ডেটা প্ল্যান, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৩৪০ টাকা, তা বেড়ে ৪১৯ টাকা হতে পারে। আবার ৫৬ দিনের মেয়াদের ২ জিবি দৈনিক ডেটা প্ল্যান ৫৭৯ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬৯৯ টাকায় পৌঁছতে পারে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি রিচার্জেও গ্রাহকদের খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে।
তবে অভিজ্ঞ মহলের মতে, টেলিকম সংস্থাগুলি সব সময় সরাসরি প্ল্যানের দাম বাড়ায় না। অনেক ক্ষেত্রেই তারা কৌশল বদলে নেয়। কখনও প্ল্যানের বৈধতা কমিয়ে দেওয়া হয়, কখনও আবার ডেটা বা অন্যান্য সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জিয়ো, এয়ারটেল এবং ভিআই, এই তিন সংস্থাই একাধিক প্রিপেইড প্ল্যানে এমন পরিবর্তন এনেছে। ফলে গ্রাহকদের একই সুবিধা বজায় রাখতে আগের তুলনায় বেশিবার রিচার্জ করতে হচ্ছে। এর ফলেও মাসিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
টেলিকম বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ৫জি পরিষেবার বিস্তার যত বাড়বে, ততই উচ্চমূল্যের প্ল্যানের দিকে ঝুঁকবে সংস্থাগুলি। গ্রাহকদের সামনে বিকল্প কম থাকায়, অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামের প্ল্যান বেছে নেবেন। অন্য দিকে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, নেটওয়ার্ক পরিষেবার মান কি সেই অনুপাতে উন্নত হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আগামী দিনে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের শুরুতেই মোবাইল রিচার্জে নতুন করে চাপ বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হলেও, বাজারের ইঙ্গিত আগামী দিনে মোবাইল ব্যবহারের খরচ আরও বাড়তে চলেছে। গ্রাহকদের তাই এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে বাড়তি ব্যয়ের জন্য।
ছবি: প্রতীকী




