তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সালটা ছিল ২০২২। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খেলনা বাড়ি’ দিয়ে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity)। তিন বছরের মধ্যেই সেই আরাত্রিকাই এখন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) -এর বহুচর্চিত ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ছোটপর্দার অভিনেত্রী থেকে বড়পর্দায় জায়গা করে নেওয়ার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি আরাত্রিকাকে ঘিরে ঘুরছে একের পর এক প্রেমের গুঞ্জন, যা তাঁকে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলেছে।
কখনও শোনা গিয়েছে অভিনেতা আর্য দাশগুপ্ত (Arya Dasgupta) -এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা। আবার কখনও নাম উঠে এসেছে অভিষেক বীর শর্মা (Abhishek Veer Sharma) কিংবা দিব্যজ্যোতি দত্ত (Dibyajyoti Dutta) -এর। বিশেষ করে বর্তমান ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র নায়ক অভিষেকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নিন্দকদের জল্পনা আরও বেড়েছে। কেউ কেউ তো দাবি করছেন, অভিষেকের সঙ্গেই নাকি লুকিয়ে প্রেমে মগ্ন আরাত্রিকা, আর সেই কারণেই নাকি আগের সম্পর্ক ভেঙেছে। আবার একাংশের মতে, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে ‘চৈতন্যদেব’ চরিত্রে অভিনয় করা দিব্যজ্যোতির বিপরীতে ‘লক্ষ্মীপ্রিয়া’ হিসেবে কাজ করতে গিয়েই নাকি অভিনেত্রীর মন উড়ুউড়ু হয়ে উঠেছে।

এই সব জল্পনার মধ্যেই সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, আরাত্রিকার জন্মদিনে পোলারাইড ক্যামেরা উপহার দিয়েছেন অভিষেক বীর শর্মা (Abhishek Veer Sharma)। মন্দারমণিতে ছোটপর্দার শিল্পীদের একাংশের সঙ্গে চড়ুইভাতির আয়োজন হয়েছিল। সেখানেই জন্মদিনের ফাঁকে একান্তে সময় কাটাতে দেখা যায় দু’জনকে। সেই ভিডিয়োর অংশ আবার নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন আরাত্রিকা। ফলে প্রেমের গুঞ্জন নতুন করে মাথাচাড়া দেয়।
এই আবহে একটি বিশেষ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের মনের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity)। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছে গভীর আক্ষেপ। অভিনেত্রীর কথায়, ‘সবাই আমার প্রেমজীবন নিয়ে জানতে চায়। কিন্তু কেউ জানে না, মা-বাবা ছাড়া আমার পেশাজীবনকে পরিবারের কেউ সমর্থন করেন না।’ শুধু পরিবার নয়, নিজের এলাকা ঝাড়গ্রামের (Jhargram) বাসিন্দাদের মনোভাব নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘একই অঞ্চলের অন্যান্য অভিনেত্রীদের নিয়ে মানুষ খুব ইতিবাচক। তাঁদের প্রকাশ্যে সমর্থনও করা হয়। অথচ আমার ক্ষেত্রে সেই সমর্থন কোথাও নেই।’ আরাত্রিকা জানান, তাঁর পরিবার যৌথ। বাড়িতে বহু সদস্য একসঙ্গে থাকেন। অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত জানাতেই অনেকের কাছ থেকে কটু মন্তব্য শুনতে হয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, ‘অভিনয় করতে যাব শুনে অনেকে বলেছিল, “খুব নোংরা জায়গায় কাজ করতে যাচ্ছিস।” অথচ আজ তিন নম্বর ধারাবাহিকের মাথায় থাকাকালীন বড়পর্দায় সুযোগ পেয়েছি।’ বড়দিনে মুক্তি পেতে চলেছে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। কিন্তু সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো মানুষ বলতে মা-বাবা ছাড়া আর কেউ নেই বলেই তিনি জানিয়েছেন। প্রেমের গুঞ্জনের আড়ালে যে কতটা লড়াই লুকিয়ে রয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেছেন আরাত্রিকা। তাঁর মতে, অভিনয় মানেই শুধু আলো-ঝলমলে জীবন নয়। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় শিল্পীদের। তিনি বলেন, ‘যদি পরিবার আর এলাকার মানুষ পাশে থাকত, তাহলে মানসিক জোরটা অনেক বেশি পেতাম।’ উদাহরণ দিতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকের ট্রেলারে তাঁকে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে। উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দিতে হয়েছিল। আবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে পরপর সাতটি নৌকো পেরোতে হয়েছে তাঁকে।

সেই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এখনও স্পষ্ট তাঁর মনে। আরাত্রিকার কথায়, ‘নৌকোর গলুইয়ের কাঠের পাটাতন ভাঙা ছিল। চিত্রগ্রাহকের পা কেটে রক্তারক্তি হয়ে যায়। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমার কিছু হয়নি।’ কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের গল্পেও পরিবারের বিশেষ ভ্রূক্ষেপ নেই বলে আক্ষেপ অভিনেত্রীর।আরাত্রিকার দাবি, প্রেম নয়, তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য পেশাগত উন্নতি। আগেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে কাজই তাঁর ‘পাখির চোখ’। তবু বারবার তাঁকে প্রেমের গুঞ্জনে জড়িয়ে ফেলা হয়। অভিনেত্রীর মতে, ‘আমার কাজ, আমার পরিশ্রম নিয়ে আলোচনা কম হয়। সবাই শুধু কার সঙ্গে প্রেম করছি, সেটাই জানতে চায়।’
তবু সব বাধা পেরিয়ে আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity) আজ যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তা সহজ নয়। ধারাবাহিকের ব্যস্ত শুটিং, বড়পর্দার প্রস্তুতি, পারিবারিক চাপ, সব মিলিয়ে তাঁর পথ মোটেও মসৃণ নয়। কিন্তু সেই পথেই তিনি এগিয়ে যেতে চান। প্রেমের গুঞ্জন যতই থাকুক, তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের জায়গা তৈরি করা। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় এই যাত্রা যে কেবল শুরু, তা বলাই বাহুল্য।




