সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে জাতীয় ইতিহাস, অনুপ্রেরণা এবং দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিসৌধ ‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল’ (Rashtra Prerna Sthal) এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। মঙ্গলবার এই প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই স্মৃতিসৌধের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেই লক্ষ্যেই এখন চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উদ্বোধন মানেই রাজ্য ও কেন্দ্র, দু’স্তরের প্রশাসনের উপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায়। যোগী আদিত্যনাথ এদিন আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন এবং নির্মাণকাজের সময়সীমা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনওভাবেই কাজের গুণগত মানের সঙ্গে আপস না করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল কেবল একটি স্মৃতিসৌধ নয়, এটি আগামী প্রজন্মের কাছে জাতীয় আদর্শ ও ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।’ সেই কারণেই প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়েছে।রাষ্ট্র প্রেরণা স্থলকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বড়সড় পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্মৃতিসৌধে দেশের বিভিন্ন মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জাতীয় চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ব্যক্তিত্বদের অবদান তুলে ধরা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীরা সহজেই দেশের অতীত সম্পর্কে জানতে পারে। ডিজিটাল প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লে এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় আধিকারিকরা তাঁকে নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। জানা যায়, মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে সৌন্দর্যায়ন, ল্যান্ডস্কেপিং এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক পরিকাঠামো তৈরির কাজ। পার্কিং, নিরাপত্তা চেকপোস্ট, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের কথা মাথায় রেখে সাজানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচিতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কাশী বিশ্বনাথ করিডর থেকে শুরু করে অযোধ্যার রাম মন্দির, একাধিক বড় প্রকল্প ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে আলোচিত হয়েছে। রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি সংযোজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বিশেষভাবে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়ে আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়েছে।উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মুখপাত্র জানান, উদ্বোধনের দিন রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল শুধু একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে নয়, তা জাতীয় ঐক্য ও অনুপ্রেরণার নিদর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তাঁর কথায়, ‘এই স্থল দেশের তরুণদের কাছে বার্তা দেবে, ভারতের ইতিহাস শুধু পড়ার বিষয় নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বও আমাদের।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। অনেকেই মনে করছেন, রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল লখনউয়ের পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে এসে ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক ভারতের ভাবনাকে একসঙ্গে অনুভব করতে পারবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষজনেত কথায়, যোগী আদিত্যনাথের এই পরিদর্শন স্পষ্ট করে দিল যে, রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল শুধু একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্প নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এটি একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এখন নজর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের দিকে। তাঁর হাত ধরে এই স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন রাজ্য ও দেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কী বার্তা দেয়, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aditya-L1 first visible wavelength CME observation by India and NASA | সূর্যের বিস্ফোরণ ধরা পড়ল আদিত্য-এল১ -এর চোখে: প্রথমবার দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সিএমই পর্যবেক্ষণ করে ইতিহাস গড়ল ভারত-নাসা যৌথ অভিযান




