সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ভুবনেশ্বর : ওড়িশার ভুবনেশ্বর শহরের একটি জনপ্রিয় রুফটপ পানশালায় শুক্রবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে সেফটি অডিটের প্রশ্ন তুলে দিল। সকাল প্রায় সওয়া ৮টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ঘন ধোঁয়া বেরতে দেখেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনে রূপ নেয় এবং মুহূর্তে গ্রাস করে ফেলে গোটা পানশালাটিকে। এই ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে আতঙ্কে হোটেলের অতিথি, কর্মী সবাই ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁরা যখন প্রথম ধোঁয়া দেখতে পান, তখনই হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পানশালা সম্পূর্ণভাবে জ্বলতে থাকে। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোলেও পরবর্তী সময়ে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আরও কয়েকটি ইঞ্জিন এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়।
দমকল বিভাগের আধিকারিক রমেশ মাঝি (Ramesh Majhi) জানান, প্রায় এক ঘণ্টার তৎপরতার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আগুন যাতে পাশের বহুতল কিংবা হোটেলের মূল অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, তা রুখতেই আমাদের দল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করেছে। আপাতত আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে। তদন্ত চলছে।” উউল্লেখ্য, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে দমকল বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, “ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিতভাবে জানতে বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।” পাশাপাশি হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোটেল এবং রুফটপ পানশালাটি নাকি যথাযথ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এ বিষয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। এক বাসিন্দার কথায়, “অনেকবার বলেছি এটি অবৈধভাবে চলছে। সেফটি নর্মস মানা হয় না। আজ সকাল বলে বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা গিয়েছে।” সৌভাগ্যবশত, সকালবেলার সময় হওয়ায় পানশালায় ভিড় ছিল না বললেই চলে। ফলে কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসনের মতে, যদি এই আগুন রাতের ব্যস্ত সময় লাগত, যখন পানশালায় প্রচুর মানুষের ভিড় থাকে, তবে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারত।
এই ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই গোয়ার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নৈশক্লাব অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে, যেখানে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সারা দেশ জুড়ে হোটেল, পাব, লাউঞ্জ ও নৈশক্লাবগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ভুবনেশ্বরের এই আগুনের ঘটনার পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরগুলিতে দ্রুত বাড়তে থাকা রুফটপ বার এবং নাইটলাইফ কালচারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ন্যূনতম মান রক্ষা করা হচ্ছে না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি প্রস্থান, এসবেই দেখা যাচ্ছে গুরুতর অবহেলা। ভুবনেশ্বরের এই পানশালার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসতর্কতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ অফিসারদের মতে, “এই ঘটনায় যদি কোনও রকম অসতর্কতা বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ভুবনেশ্বরের এই অগ্নিকাণ্ড ভারতের বিনোদন ও আতিথেয়তা শিল্পকে আবারও সতর্ক করল। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রুফটপ বারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সাধারণত বেশি থাকে, কারণ উন্মুক্ত স্থানে বৈদ্যুতিক তার, ডেকরেশন লাইট, কিচেন এলাকা এবং গ্যাস সংযোগ একসঙ্গে থাকে। তাই সেফটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে অনুসরণই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে যখন নৈশক্লাব ও পানশালাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় ভুবনেশ্বরের এই অগ্নিকাণ্ড গোয়ার ভয়ানক ঘটনার স্মৃতি ফের জাগিয়ে তুলল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কঠোর সেফটি অডিট না হলে ভবিষ্যতেও এরকম দুর্ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Goa nightclub fire, Birch Club Goa accident | ‘নথি নেই, নজরদারি নেই’: গোয়ার নৈশক্লাবের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ধেয়ে আসছে তীব্র সমালোচনা




