সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতে শীতের থাবা এবার আগেভাগেই গভীর চিহ্ন এঁকে দিল। উত্তর, মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই কাঁপছে যথেচ্ছ ঠাণ্ডায়। আবহাওয়া দফতর (IMD) বৃহস্পতিবার রাতেই জানিয়ে দেয়, মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), মহারাষ্ট্র (Maharashtra), কর্নাটক (Karnataka), তেলঙ্গানা (Telangana), ছত্তীসগঢ় (Chhattisgarh) এবং ওড়িশা (Odisha) মোট ছয়টি রাজ্যে জারি হয়েছে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) থেকে নাগাল্যান্ড (Nagaland) পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ঘন কুয়াশার বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের শীত যে অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হতে চলেছে, তার প্রথম বড় উদাহরণ হল মধ্যপ্রদেশের শহর ইনদওর (Indore)। ডিসেম্বরের শুরুতেই শহরটি ভেঙেছে গত ১০ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। বৃহস্পতিবার রাতের ইন্দোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৪.৫°C -এ। যা সাধারণত শৈলশহর পাঁচমারি (Pachmarhi)-এর কাছাকাছি দেখা যায়। বরফশীতল হাওয়া ও রাতের তাপমাত্রার দ্রুত পতন নিয়ে আবহাওয়াবিদদের মতে, “এই শৈত্যপ্রবাহ শুধু অল্পকালীন নয়, আগামী কয়েকদিন আরও তীব্র হতে পারে।” মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনিক মহলের দাবি, ভোপাল (Bhopal), সীহোর (Sehore), শাজাপুর (Shajapur), রাজগড় (Rajgarh) সহ একাধিক জেলায় শুক্রবার থেকেই নতুন শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হবে। ভোপালে টানা ছ’দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আবার পাঁচ বড় শহর : ভোপাল, গোয়ালিয়র (Gwalior), জব্বলপুর (Jabalpur), উজ্জয়িনী (Ujjain) এবং ইন্দোর সব জায়গাতেই এবার তাপমাত্রা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
হিমালয়ের কোলে থাকা উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) ইতিমধ্যেই তুষারপাতের পরত জমিয়ে ফেলেছে। পিথোরাগড় (Pithoragarh) ও চমোলি (Chamoli)-এর বহু অঞ্চলে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত ঠাণ্ডায় থমকে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “এমন শীতে গৃহস্থের পানীয় জলের পাইপ জমে যাওয়া খুবই বিরল ঘটনা।” শুধু পাহাড়ই নয়, সমতলেও সতর্কতা জারি হয়েছে। হরিদ্বার (Haridwar), হলদওয়ানি (Haldwani), রুদ্রপুরে (Rudrapur) তিন জেলায় ঘন কুয়াশা ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা একসঙ্গে জানিয়েছে IMD। তীব্র শীতের দাপটে পিছিয়ে নেই রাজস্থানও (Rajasthan)। রাজ্যের নয়টি শহরে তাপমাত্রা ৯°C -এর নিচে, এমনকি সীকরের (Sikar) ফতেপুরে (Fatehpur) নেমেছে ৪°C, যা এখন পর্যন্ত রাজস্থানের সর্বনিম্ন। নাগৌর (Nagaur)-এ ৫°C, লুণকরণসর (Lunkaransar)-এ ৫.৬°C এবং রাজধানী জয়পুরে (Jaipur) নেমেছে ১০°C -এ। হঠাৎ এই তাপমাত্রা পতনে জনজীবন প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “সকালে বাজার খুলতেই হাত জমে যায়। এমন ঠান্ডা সাধারণত জানুয়ারির আগে দেখা যায় না।”
ছত্তীসগঢ় (Chhattisgarh) -এর অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যের সাতটি শহরে বৃহস্পতিবার রাতে তাপমাত্রা ১০°C -এর নিচে। সরগুজা (Surguja), দুর্গ (Durg), বিলাসপুর (Bilaspur) ও রায়পুরে (Raipur)-এ আগামী দু’দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।হরিয়ানাতেও (Haryana) শীতের কামড় বেড়েছে। কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা নামছে সরাসরি ২°C -এ। ফলে রাজ্যে ব্যাপক শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, “উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক ঠাণ্ডা হাওয়ার সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর-ভারতের বৃহৎ অংশে আগামী কয়েকদিন ঠান্ডা আরও বাড়বে।”
দেশজুড়ে যে ধরনের তাপমাত্রা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাতে এবারের শীত ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন শীতের তালিকায় উঠে আসতে পারে, এমনই আশঙ্কা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষত বৃদ্ধ, শিশুরা ও যাঁরা শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভোগেন, তাঁদের জন্য। উল্লেখ্য, ভারতে ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন ভয়াবহ শীত নেমে আসা বিরল ঘটনা। শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা, তুষারপাত, সব মিলিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ দেশজুড়ে শীতের অস্বাভাবিক জাঁক বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi praises Devabrata | কাশীতে তরুণ দেবব্রতর বৈদিক সাধনায় দেশ গর্বিত, প্রশংসায় মুখর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




