ছবি ধর, সাশ্রয় নিউজ ★ রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জে তিন দিন ধরে জমে উঠেছিল উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির উৎসব। পশ্চিমবঙ্গ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং বাংলা আকাদেমি-এর (Bangla Academy) উদ্যোগে আয়োজিত লিটিল ম্যাগাজিন মেলা ‘উত্তরের হাওয়া ২০২৫’ এ বছর আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হলো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর অনুপ্রেরণায় আয়োজনটি এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে জানান উপস্থিত কবি ও সাংস্কৃতিককর্মীরা।

৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর এই তিন দিন ধরে রায়গঞ্জ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (Surendranath College) প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে কবিতাপ্রেমী মানুষের ভিড়ে। নবীন ও প্রবীণ কবিদের মিলন, ছোট পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশকদের সমাগম, উত্তরবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের অনাবিল আন্তরিকতা-সব মিলিয়ে মেলাটি হয়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। তিনি বলেন, “বাংলা লিটিল ম্যাগাজিন কোনও দিনই নিছক শখের জায়গা ছিল না, এটাই বাংলা সাহিত্যের মূল শিরা।

উত্তরবঙ্গের এই উদ্যোগ সারা রাজ্যের জন্য উদাহরণ।” সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রাব্বানী (Ghulam Rabbani), রায়গঞ্জ পুরসভার প্রথম নাগরিক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা রায় (Pompa Roy), সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ চন্দন রায় (Chandan Ray), কবি সুবোধ সরকার (Subodh Sarkar), লেখক নলিনী বেরা (Nalini Bera) সহ বহু বিশিষ্টজন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে আগেই পাঠানো হয়েছিল আমন্ত্রণপত্র। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কোচবিহার, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, মালদা, উত্তর দিনাজপুর-সহ বহু জেলা থেকে কবিরা একত্রিত হন।

উপস্থিত ছিলেন বঙ্গরত্ন সম্মানপ্রাপ্ত কবি কমলেশ সরকার (Kamalesh Sarkar)। কোচবিহার থেকে অংশ নেন প্রাবন্ধিক গবেষক দেবব্রত চাকি (Debabrata Chaki), কবি সুবীর সরকার (Subir Sarkar), গৌতম ভাদুড়ী (Goutam Bhadhuri), মৃত্যুঞ্জয় ভাওয়াল (Mrityunjoy Bhawal), ভূপালি রায় (Bhupali Roy), ছবি ধর (Chhobi Dhar), মাধবী দাস (Madhabi Das), চৈতালি ধরিত্রিকন্যা (Chaitali Dharitrikannya), পাপড়ি গুহনিয়োগী (Papri Guhaneogi), গৌরাঙ্গ সিনহা (Gouranga Sinha), সৈকত সেন (Saikat Sen), সুজয় নিয়োগী (Sujay Neogi), স্বপন সরকার (Swapan Sarkar), তাপস দাস (Tapas Das), শীলা সরকার (Shila Sarkar), অলোক চক্রবর্তী (Alok Chakraborty), কৃষ্ণেন্দু দাস (Krishnendu Das), অজয় মজুমদার (Ajay Mazumdar)। এছাড়াও উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলা থেকে আগত আরও বহু কবি, লেখক ও ছোট পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক যোগ দেন উৎসবে।
মেলা উপলক্ষ্যে কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছিল একাধিক পাঠ-মঞ্চ। মূল মঞ্চ ছাড়াও হলঘরগুলিতে চলছিল নিয়মিত কবিতা পাঠ, গল্প পাঠ, আলাপচারিতা এবং আলোচনা সভা। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সাহিত্য আসরে একের পর এক কবির আবৃত্তি, আলোচনা, নতুন বইয়ের প্রকাশ এবং লিটিল ম্যাগাজিনের স্টলে ভিড় ছিল লক্ষণীয়। রাজ্যের সংস্কৃতিমনা মানুষের মতে, এই ধরনের উৎসব উত্তরবঙ্গের সাহিত্যচর্চাকে আরও গভীর এবং সমৃদ্ধ করে। ছোট পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে বই-ম্যাগাজিন বিনিময়, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং নতুন সাহিত্যিকদের সামনে আনার পরিকল্পনাও হয় মেলার বিভিন্ন সেশনে।
একজন উপস্থিত অতিথি কবি মন্তব্য করেন, ‘উত্তরের হাওয়া’ শুধু মেলা নয়, উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির এক আন্দোলন। এখানে এসে মনে হয় বাংলা ভাষা তার সমস্ত শক্তি নিয়ে আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।’ উল্লেখ্য, সমগ্র আয়োজন জুড়ে ছিল বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা, কবিতার প্রতি মুগ্ধতা এবং মানবতার বার্তা। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই লিটিল ম্যাগাজিন মেলাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তাঁদের।
ছবি : সংগৃহীত




