সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দার্জিলিং : কার্শিয়াঙ (Kurseong) থেকে সিটং (Sitong) যাওয়ার পথে গভীর খাদে পড়ে ভয়াবহ মৃত্যু তিন জনের। রবিবার রাতের নেমে আসা অন্ধকার আর পাহাড়ি রাস্তায় নেমে আসা নীরবতা এই দুর্ঘটনাকে আরও মারাত্মক করে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতোটাই নিস্তব্ধ ছিল এলাকা যে রাতভর কারও নজরেই পড়েনি খাদে পড়ে থাকা গাড়িটি। সোমবার সকালে পথচারীরা নিচে পড়ে থাকা গাড়িটি দেখতে পান। এরপরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ, কিন্তু ততক্ষণে প্রাণহীন দেহ পড়ে ছিল তিন যাত্রীর। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতদের নাম বিগেন ভুজেল (Bigen Bhujel), রূপেন খাওয়াশ (Rupen Khawas) এবং রমেশ গুরুং (Ramesh Gurung)। স্থানীয়দের মতে, বিগেন ভুজেল শুধু এলাকার পরিচিত মুখই নন, তিনি ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য এবং অনীত থাপা (Anit Thapa) -এর দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা বা বিজিপিএম (BGPM) -এর সক্রিয় কর্মী। তাঁর হঠাৎ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাহাড়ি এলাকায় রাতে ঘন কুয়াশা, আঁকাবাঁকা রাস্তায় ঢাল, আর অন্ধকার মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেক সময়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তবে এই দুর্ঘটনার আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশও। কার্শিয়াঙ থানার আইসি পলাশ মহন্ত (Palash Mahanta) ঘটনার বিষয়ে জানান, “চালক ছাড়াও গাড়িতে তিন জন ছিলেন। চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে কীভাবে গাড়িটি খাদে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, সিটং রুটটি দিনের বেলায় পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম থাকলেও রাতে রাস্তাটি প্রায় অন্ধকারে ডুবে থাকে। একদিকে খাদ, অন্যদিকে পাহাড়, সেই বিপজ্জনক রুটে ছোট্ট এক ভুলই জীবনের বিনিময়ে শেষ হয়ে যেতে পারে। রবিবার রাতে দুর্ঘটনা হওয়ার পর তা কেউ টের পায়নি বলেই রাতভর আটকে ছিলেন আহত চালক, আর প্রাণ হারিয়েছিলেন তিন জন।
সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন কর্মস্থলে বের হওয়ার পথে গাড়িটির একটি অংশ খাদে দেখতে পেলে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর নিচে নেমে দেখেন গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে। তখনই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। আসে দমকল। উদ্ধার করতে নামতে হয় দড়ি বেঁধে। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল। গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি নিথর দেহ।ঘটনার পর থেকেই কার্শিয়াঙ ও সিটংয়ের মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, পাহাড়ি রাস্তায় রাতের ট্রাফিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে হবে। রাস্তার ধারে আরও আলো বসানো, বিপজ্জনক বাঁকে সাইনবোর্ড লাগানো, পর্যাপ্ত ব্যারিকেড স্থাপন, এসব দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায়, বারবার একই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ঘটনায় বিজিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্ব শোকবার্তা জানিয়েছে। বিগেন ভুজেলের মৃত্যুতে সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মী নন, মানুষের পাশে থাকা একজন সমাজনেতা ছিলেন। তাঁর মতো মানুষকে হারানো কার্শিয়াঙের পক্ষে অপূরণীয় ক্ষতি। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে, গাড়ির ব্রেক-সিস্টেম ও ইঞ্জিন পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকার, দ্রুতগতি, নাকি ব্রেকফেল, কী কারণে গাড়িটি খাদে পড়ল, তা জানতে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানাচ্ছে তদন্তকারী দল।
উল্লেখ্য যে, পাহাড়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে বহুবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও এখনও সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পর্যটন মরশুমে এই রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে। তাই তার আগেই সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে। অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, পাহাড়ি রাস্তা কখনই অবহেলার জায়গা নয়। অন্ধকার, কুয়াশা, খাড়া ঢাল আর অরক্ষিত বাঁক, সব মিলিয়ে সামান্য ভুলই জীবন কেড়ে নিতে পারে। কার্শিয়াঙ-সিটং রাস্তার এই দুর্ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Russia 23rd Summit, Narendra Modi Russia post | ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ২০৩০ পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় শান্তি, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও গুরুত্ব




