Parliament Winter Session 2025 | সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তীব্র বাকযুদ্ধ, স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে বাড়তি তহবিলের পথে বড় সিদ্ধান্ত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : সংসদের শীতকালীন অধিবেশন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ, তর্ক-বিতর্ক এবং টানা কর্মবিরতির মধ্যে উত্তাল দুই কক্ষ। সোমবার অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষেই চোখ পড়ল নানা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ‘হেলথ সিকিউরিটি সে ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস বিল, ২০২৫ (Health Security se National Security Cess Bill, 2025)’ পাস হওয়া, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পান-মশলা উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির উপর সরাসরি সেস আরোপের পথ প্রশস্ত হল। সরকারের দাবি, এই সেস থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় হবে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘জনস্বাস্থ্য’ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে।

আগেই লোকসভায় পাস হয়েছিল বিলটি। সোমবার রাজ্যসভা তা বিবেচনার পর আবার লোকসভায় ফেরত পাঠায়, ফলে সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে বিলটি কার্যত অনুমোদন পেয়ে গেল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) এই বিলে দাবি করেন, “এটি শুধু রাজস্ব সংগ্রহেরই উদ্যোগ নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য একটি প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।” তাঁর বক্তব্য, তামাকজাত পণ্য ও পান-মশলার মতো পণ্যে সেস আরোপ করলে স্বাস্থ্য-ক্ষতির কারণে বাড়তি সরকারি ব্যয় মেটাতে তহবিল বাড়বে। এদিকে, লোকসভায় সোমবার আলোচনা শুরু হয় বন্দে মাতরমের (Vande Mataram) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ বিতর্ক, যার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গোগোই (Gaurav Gogoi) এবং ওয়ানাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাদেরা (Priyanka Gandhi Vadra)। আগামী সপ্তাহে দুই কক্ষেই জাতীয় সঙ্গীত নয়, জাতীয় গান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা।

রাজ্যসভায় বিতর্ক গরম করে দেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সংসদের রীতি-নীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংসদের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ বা কোনও স্লোগান সংসদের ভেতরে দেওয়া যাবে না। অথচ বিজেপি নিজেদের বন্দে মাতরমের সবচেয়ে বড় রক্ষক বলে দাবি করছে, যা আসলে এক ‘খারাপ লেখা কমেডি স্ক্রিপ্ট’।” তিনি উল্লেখ করেন, আরএসএস (RSS) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৫ সালে, অর্থাৎ বন্দে মাতরম ছাপা হওয়ার ৫০ বছর পর। আর বিজেপি (BJP) গঠিত হয় ১৯৮০ সালে। তাঁর দাবি, “যাঁরা গানটির জন্মের সঙ্গে কোনও সম্পর্কিত নন, তাঁরাই আজ সেই গানকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করছেন।” উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য খাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) বনাম বাংলার স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) প্রকল্প তুলনা করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “আয়ুষ্মান ভারত চালু না করায় পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষ প্রায় ৭৮৫ কোটি টাকার সরাসরি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।”

তৃণমূল সাংসদদের প্রতিবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সীতারামন বলেন, “This is not the streets of Bengal.” এই মন্তব্যেই ক্ষোভ ছড়ায় বিরোধীদের মধ্যে। সভাপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন (C.P. Radhakrishnan) বারবার অনুরোধ করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেননি। এর মাঝে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেপি নড্ডা (J.P. Nadda) ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “এভাবে বিতর্ক চলে না। আপনাদের সদস্য কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। এখন উত্তরের সময় আবার গোলমাল কেন? ফিশ মার্কেট তৈরি করবেন না।”

সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস (John Brittas) কেন্দ্রীয় তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাবে সীতারামন বলেন, “১৪তম ফাইন্যান্স কমিশন রাজ্যগুলির তহবিল ৩২% থেকে ৪২% করার প্রস্তাব দেয় ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে সমস্ত কেন্দ্রীয় স্কিম বন্ধ করার সুপারিশও দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাতে সায় দেননি। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি আজও চালু আছে।”
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) বলেন, বন্দে মাতরমকে ‘সম্প্রদায়গত’ বলা একদমই ভুল। তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, বন্দে মাতরম আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। এতে কোনও সাম্প্রদায়িক বার্তা নেই, বরং মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা আছে।”
তিনি আরও বলেন, “ড. রাজেন্দ্র প্রসাদও বলেছিলেন, এই গানে মূর্তিপূজার প্রচার নেই। বরং দেশপ্রেমের এক অনন্য আহ্বান আছে।” তিনি স্মরণ করান, মওলানা আবুল কালাম আজাদও (Maulana Abul Kalam Azad) গানটিকে ‘সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যার বাইরে’ দেখে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

আগামী কর্মসূচি: নির্বাচন সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত বিতর্কের প্রস্তুতি*****

মঙ্গলবার ও বুধবার লোকসভায় ‘ইলেকশন রিফর্মস’ নিয়ে গভীর বিতর্ক হবে, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে:
*বিশেষ রিভিশন সিআইআর
*ডিজিটাল ভোটার কার্ড
*ভোটার লিস্টে অনিয়ম
*রাজনৈতিক অর্থায়ন
উল্লেখ্য, রাজ্যসভা একই বিষয়ে আলোচনা করবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার। উল্লেখ্য, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন এখনও কয়েকদিন চলবে। আর প্রথম সপ্তাহ দেখে রাজনৈতিক সমালোচকরা অনুমান করছেন, আসন্ন দিনগুলিতে ভোট, ভোটার তালিকা, দেশপ্রেম, অর্থনীতি সব বিষয়েই আরও ঝড় বইতে চলেছে সংসদের দুই কক্ষেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : UNESCO Intangible Cultural Heritage | লালকেল্লায় ইউনেস্কো সম্মেলন শুরু, বিশ্ব সংস্কৃতি রক্ষায় ‘অগাধ আনন্দ’ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন